• রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
জাতীয় মৎস্য পদক পাওয়ায়  বগুড়া-৩ আসনের এমপি আব্দুল মহিত তালুকদার কে অভিনন্দন ও  শুভেচ্ছা  শ্রীপুরে কালবের উদ্যোগে মিউচ্যুয়াল এইড সার্ভিসেস ও লাইফ সেভিংসের বেনিফিট প্রদান অনুষ্ঠান প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরায়েলি মন্ত্রী সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, ১২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বেলার আইনি নোটিশ চার্জ দেওয়ার সময় ১০ ভুলে নষ্ট হতে পারে সাধের স্মার্টফোন সান্তাহারে অবৈধ ভাবে হোটেল পরিচালনার অপরাধে দুই প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা শ্রীপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষের শুভ উদ্বোধন, আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ আদমদীঘিতে প্রভাবশালীদের চাপে অবশেষে সিলগালাকৃত সার গুদাম খুলে দিলেন কর্তৃপক্ষ সান্তাহারে নেশা জাতীয় ইনজেকশন সহ যুবক গ্রেপ্তার বিএনপি সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

৬ মাসে ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ Time View
Update : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্য দেশের ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তিনি বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো টু-জি ফোন (বাটন ফোন) ব্যবহার করে। ১৪ কোটি ফোন ব্যবহারকারীর এই ৫০ শতাংশ মানুষকে আমরা রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসতে পারবো না। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসবো।

কম দামের স্মার্টফোন তৈরি ও সহজ কিস্তি সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বিপুলসংখ্যক এই মানুষকে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রেহান আসাদ আসিফ বলেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মোবাইল ফোন এখনো টু-জি। সর্বশেষ হিসাবে দেশে প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল ফোন থাকলে এর অর্ধেক অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি ফোন ব্যবহারকারীকে রাতারাতি স্মার্টফোনে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। তবে সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে এ পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, বাজেটের দুই সপ্তাহ আগে আমরা এই সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। শিল্পের সবাই, নির্মাতারা মিলে আলোচনা করে একটি সমাধান বের করেছেন। তারা এসে দেখিয়েছেন- এ ধরনের ফোন তৈরি করা সম্ভব।

কম দামের স্মার্টফোন তৈরি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শুরুতে ৩ হাজার টাকার মধ্যে ফোন তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাতারা ৭ দিনের মধ্যে বিল অব ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে দেখান, ৩ হাজার টাকায় এটি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে তৈরি করা সম্ভব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যালোচনা করে সবচেয়ে কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ভারতের রিলায়েন্সে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান রেহান আসাদ আসিফ। তিনি বলেন, রিলায়েন্স প্রায় ৩৯ ডলারে একটি ফোন বিক্রি করছে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফোনটির পুরোটা টাচস্ক্রিন নয়; প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ টাচস্ক্রিন এবং এক-তৃতীয়াংশ কিপ্যাড। এতে স্ক্রিনের আকার কমিয়ে ও কিপ্যাড ব্যবহার করে প্রায় ৬ ডলার খরচ কমানো হয়েছে। এই মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারাও কম দামের স্মার্টফোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রেহান আসাদ আসিফ বলেন, আমাদের এখানে যারা নির্মাতা, তারা প্রায় ৩০ বছর ধরে এই শিল্পে কাজ করছেন। দুই সপ্তাহ আগে তারা ফিরে এসে বলেছেন, রিলায়েন্স যে পদ্ধতিতে করছে, ঠিক সেই পদ্ধতিতে আমরা ৫০ থেকে ৫৫ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে এটি তৈরি করতে পারবো।

তবে কম দামের এই স্মার্টফোন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

মোবাইল অপারেটরদেরও এ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে কো-ব্র্যান্ডিং এবং ফোনের সঙ্গে ভয়েস ও ডাটা প্যাকেজ বান্ডেল করার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রেহান বলেন, আমি বলছি না যে আমাদের রিলায়েন্সের ৩৯ ডলারের দামে যেতে হবে কিংবা ২ হাজার টাকায় ফোন দিতে হবে। আমি চাই ফোনটি সাশ্রয়ী হোক এবং এই মানুষগুলোকে ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে নিয়ে আসা হোক।

আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন সাধারণ মানুষকে যদি আমরা ধীরে ধীরে সহায়তা করতে পারি, তাহলে এই ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৭ কোটি মানুষকে ডাটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব। এটি আমাদের দেশকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করবে।

এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রেহান আসাদ আসিফ বলেন, কম দামের এই ফোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর শূন্য কর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এসব কাঁচামালের ক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স, ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক (এসডি) বা ভ্যাট থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা যদি সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি, তাহলে সমস্যা থাকলেও তার সমাধান করা সম্ভব।

টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category