বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলোর একটি হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসের কাজ, পড়াশোনা কিংবা ব্যবসায়িক আলাপ সব ক্ষেত্রেই অ্যাপটি ব্যবহার করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে কি বয়সের ভিত্তিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আসছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, কিছু ব্যবহারকারীকে হোয়াটসঅ্যাপে জন্মতারিখ যোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে। স্ক্রিনশটের সঙ্গে দাবি করা হয়, সম্ভাব্য নতুন নিয়মের কারণেই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর থেকেই অনেকের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, নির্দিষ্ট বয়সের নিচে থাকা ব্যবহারকারীরা হয়তো ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না।
মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, কিছু ফিচার চালু করা বা অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর বয়স জানতে চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে বয়স নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি যে নির্দিষ্ট বয়সের কম হলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। অর্থাৎ, ভাইরাল হওয়া দাবির
হোয়াটসঅ্যাপের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের আইন ও নীতিমালা মেনে চলার জন্য কিছু ব্যবহারকারীর বয়সসংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে বয়সভিত্তিক উপযুক্ত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সহজ হয়। বিশেষ করে মেটা এআই সংক্রান্ত কিছু ফিচার এবং স্ট্যাটাস ও চ্যানেলে দেখানো বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনায় এই তথ্য ব্যবহার করা হতে পারে।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স, রেডিট ও ইউটিউবের মতো কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারের দাবি, শিশুদের সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্রুমিং এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সেই বিধিনিষেধের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো বাধ্যতামূলক বয়সসীমা কার্যকর হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। ভবিষ্যতে কোনো নীতিগত পরিবর্তন এলে তা আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাবে হোয়াটসঅ্যাপ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।