• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন
Headline
সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ; জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারি প্রকৌশলীর পরিদর্শন শ্রীপুরে অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ সমন্বয় ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাদ্য ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ সান্তাহারে তিন শতাধিক বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বিশাল সংবর্ধনা প্রদান সান্তাহারে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের ৭ম পূর্ণ মিলনী অনুষ্ঠিত সান্তাহারে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্যোগে দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ আদমদীঘিতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত অনুমতি ছাড়া এনসিপি’র কমিটিতে নাম প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিং ও প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানির হুমকি; ইউএনও ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের সান্তাহারে দমদমা উদীয়মান যুব শক্তি ক্লাবের আয়োজনে নাইট শর্টবার ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত  আদমদীঘিতে গর্ভকালীন সেবা কার্ড প্রদানে ২০০ করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

শ্রীপুরে সরজিৎ-শিমু দম্পতির বিরুদ্ধে অর্ধ কোটি টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার আত্নসাতের অভিযোগ

শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি / ৩০১ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কাদিরপাড়া ইউনিয়নের ঘাসিয়াড়া গ্রামের রাজবংশী পাড়ার ২০ টি অসহায় পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের স্বরজিৎ রায়-শিমু রায় দম্পতির বিরুদ্ধে। স্বর্ণালংকার ও টাকা আত্মসাৎ করে প্রায় ৩ মাস ধরে এলাকা থেকে লাপাত্তা ওই দম্পতি। অসহায় এ পরিবারগুলো স্বর্ণালংকার ও টাকা ফেরত পেতে হন্নে হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন৷ এ ব্যাপারে স্থানীয় নাকোল পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুরাহা পায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরজিৎ রায় ও তার স্ত্রী শিমু রায়ের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বোচ্চ হারিয়েছে অন্তত ২০ টি অসহায় পরিবার। সুকৌশলে ঘাসিয়াড়া ব্যাপারিপাড়া গ্রামের আকিদুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, ঘাসিয়াড়া রাজবংশী পাড়ার সহজ সরল স্বর্ণালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, প্রমিলা রায়ের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, শিফালী সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ টাকা, দিপালী বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ঝর্না বিশ্বাসের কাছ ৫০ হাজার টাকা, শিপ্রা সেনের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও ২ লাখ টাকা, পুষ্পা বিশ্বাসের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, মিতা রাণীর কাছ থেকে দেড় ভরি স্বর্ণসহ অন্তত ২০ টি পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই দম্পতি। শুধু তাই নয়, এই দম্পতি স্থানীয় আশা, আদ দ্বীন, গ্রাম উন্নয়ন কর্ম, বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতিসহ কয়েকটি এনজিও থেকে লোন নিয়ে তা শোধ করছে না। এনজিও গুলোও পড়েছে মহা বিপদে। অনেকের মাধ্যমে এনজিও থেকে টাকা তুলে কিস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ওই দম্পতি। কিন্তু সে টাকা না দেওয়ায় মহা বিপদে পড়েছে এনজিও থেকে ঋণ তুলে দেওয়া অসহায় পরিবারগুলো। ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে দিপালী বিশ্বাস, ঝর্না বিশ্বাস ও মিতা রাণী আত্নহত্যা চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আকিদুল ইসলাম বলেন, স্বরজিৎ রায় আমার কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আমি চাইতে গেলেই সে বিভিন্ন সময় তালবাহানা শুরু করে। আমার টাকা না দিয়েই সে এলাকা থেকে পালিয়েছে। শুধু আমি না আমার মত অনেকের কাছ থেকে সে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়েছে। তারাও এখন আমার মতই নিরুপায়। আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই।

ভুক্তভোগী দিপালী বিশ্বাস বলেন, আমাকে দিয়ে স্বরজিৎ ও তার স্ত্রী শিমু ২ লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ করিয়ে নেয়। তাদের তা পরিশোধ করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। এখন আমি এনজিও এর কাছে ঋণী। টাকাটা আমারই দেওয়া লাগছে। মরা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই। মরতে গিয়েও মরতে পারিনি৷ এর জন্য দায়ী স্বরজিৎ ও তার স্ত্রী শিমু। আমি তাদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী স্বর্ণালী সেন বলেন, পুরো গ্রামের অন্তত ২০ টি পরিবারকে সর্ব শান্ত করে স্বরজিৎ ও তার বউ শিমু। আমরা সবাই চরম অশান্তিতে রয়েছি। আমরা স্বরজিৎ ও তার বউ শিমুর বিচার চাই।

বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতির ফিল্ড অফিসার ও উপজেলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন বলেন, স্বরজিত ও তার স্ত্রী বন্ধু সামাজিক ও ঋণদান সমবায় সমিতির কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ১২ টার মত কিস্তি দিয়ে এলাকা থেকে লাপাত্তা হয়েছেন। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অফিসে আমাকে জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে।

গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) এর ফিল্ড অফিসার নাঈম শেখ বলেন, এই দম্পতি ৮ মাস আগে আমাদের এনজিও থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। মাত্র ২ টা কিস্তি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তারা ওই গ্রামের আরো ৫ জনকে দিয়ে ঋণ করিয়ে নিয়েছেন৷ এখন আমরা তাদের কাছে টাকা চাইতে গেলে তারা বলছেন, তারা টাকাটা সরজিৎ ও তার স্ত্রীকে তুলে দিয়েছেন। এখন টাকা চাইতে গেলেই তাদের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা মহা বিপদে পড়েছি।

এ ব্যাপারে নাকোল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল মালেক বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা এলাকায় নেই। যার কারণে কোন পদক্ষেপ নিতে পারছিনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category