মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নাফ নদী ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাখাইনের এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা চক্র মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশে সহায়তা করছে। তাদের দাবি, চক্রটি নাফ নদীতে জলদস্যুদের মতো অবস্থান নিয়ে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের কাজে জড়িত।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (RSO) নামধারী একটি সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। এই গ্রুপের মাধ্যমে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি থাকা অবস্থায় কীভাবে সশস্ত্র গ্রুপের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিজিবির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একটি অংশ এই চক্রের মূলহোতা হিসেবে কথিত ‘মাস্টার আইয়ু’ নামে এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, “সীমান্তে মাদক, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হলে এই ধরনের সশস্ত্র গ্রুপকে দমন করা জরুরি। অন্যথায় সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।”
এ বিষয়ে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নাফ নদীতে নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে এবং মাদক ও মানব পাচার রোধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।