নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ তদন্তে গিয়ে টহল পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় এক কনস্টেবলের কাছ থেকে সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে কয়েক ঘণ্টার অভিযানে অস্ত্রটি উদ্ধার এবং তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে বন্দর উপজেলার পুরান বন্দর চৌধুরী বাড়ি এলাকার হাবিব নগর রোডে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. সোহেল রানা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ‘লিমা-৪’ টহল ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় সিফাত ওরফে টুটুল (২৮), শাহারিয়ার তানভীর (২৯) ও আবু সুফিয়ান ওরফে চমক (২৯) নামে তিন ব্যক্তি তাদের মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল হাবিব নগর রোডের গুলু মিয়ার বাড়ির সামনে যায়।
পুলিশের দাবি, সেখানে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কনস্টেবল ফয়সাল হোসেনকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে তার ডান হাতের দুটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলায় এএসআই সোহেল রানাও আহত হন। তার হাঁটুর নিচে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা কনস্টেবল ফয়সালের কাছে থাকা সরকারি শর্টগানটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে গুরুতর আহত কনস্টেবল ফয়সালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে) ভোর সোয়া ৬টার দিকে ঘটনাস্থলের পাশের একটি বেলগাছের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিনতাই হওয়া শর্টগানটি উদ্ধার করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, টহল চলাকালে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই শর্টগানটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।