• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৬ অপরাহ্ন
Headline
মরহুম আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এমপি স্মৃতি আন্ত:জেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন আদমদীঘিতে দুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মুলক সভা শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন শ্রীপুরের কৃতি সন্তান অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাঁটাতারের বেড়ায় ২৮ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ; ভোগান্তিতে পথচারী শ্রীপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙল মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবার সান্তাহারে ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু  নিখোঁজ স্ত্রী সন্ধান চেয়ে স্বামীর থানায় জিডি; ১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি আদমদীঘিতে এনএসডিএস উদ্যোগে বির্তক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরন

অবশেষে দখলমুক্ত হচ্ছে মুক্তেশ্বরী নদী

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৬৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬

যশোরের মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত কার্যক্রমের ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেছেন জেলা জজ আদালত।

বুধবার (২০ মে) এ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) আপিল শুনানি শেষ হয়। ফলে নদী দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শেষ আবদুল মোহায়মেন জানান, জেলা জজ আদালত নিম্ন আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন। এখন জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া ও ভাতুড়িয়া পূর্বপাড়ার মাঝামাঝি মুক্তেশ্বরী নদীর একটি অংশ ভরাট করে দখলে নেয়। পরে সেখানে প্লট তৈরি করে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই মাসে প্লট বিক্রির নোটিশ টানানো হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরে জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি নদী দখলের সত্যতা পায়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিএস ও এসএ রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি খাল শ্রেণিভুক্ত এবং মুক্তেশ্বরী নদীর অংশ হিসেবে উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে তা ব্যক্তি মালিকানায় চলে যায়।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৯ অক্টোবর জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় ভরাট অংশ পুনঃখননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জমির রেকর্ডধারী মোস্তফা জামাল উদ্দিন যশোর সদর সহকারী জজ আদালতে মামলা করলে গত ১০ মে আদালত দখল উচ্ছেদে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। এতে নদীপাড়ের কয়েক গ্রামের মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়।

এরপর মুক্তেশ্বরী নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি, বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলন এবং বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায়। গত রোববার সংগঠনগুলোর নেতারা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর আগের দিন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার বলেন, জেলা জজ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে জেলা নদী রক্ষা কমিটির পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড মুক্তেশ্বরী নদীর খনন কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদুর রহমান বলেন, আদালতের এ সিদ্ধান্তে মুক্তেশ্বরী নদীপাড়ের মানুষ ও বিল হরিণা অঞ্চলের কৃষকরা স্বস্তি পেয়েছেন। দ্রুত দখল উচ্ছেদ ও খনন কাজ সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে প্রায় চার হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাবে।

আরেক বাসিন্দা তৌহিদুর রহমানের অভিযোগ, একটি জালিয়াত চক্র আদালতের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে দখল ধরে রাখতে চাইছে। নতুন কোনো কৌশল নেওয়ার আগেই আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শেখ রাকিবুল ইসলাম নয়ন বলেন, আদালতের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে মুক্তেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করতে হবে। এতে এ অঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন রক্ষা পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category