কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় অপহরণ, মানবপাচার, ডাকাতি, মাদক ও চোরাচালানসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে তিনটি পৃথক পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো এক আবেদনপত্রে তিনি এই দাবি জানান।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়ন এবং উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়ন অত্যন্ত দুর্গম ও বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত। পাহাড়, গহীন বন ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় এই তিনটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার, ডাকাতি, ইয়াবাসহ মাদক পাচার ও চোরাচালানের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
বিশেষ করে টেকনাফের হোয়াইক্যং-এর পাহাড়ি এলাকা এবং বাহারছড়ার উপকূলীয় অঞ্চল মানবপাচারকারীদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একইভাবে জালিয়াপালংয়ের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি জনপদে অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। থানা থেকে এসব এলাকার দূরত্ব বেশি হওয়ায় পুলিশের পক্ষে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।
এমপি শাহজাহান চৌধুরী আবেদনে বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পর থেকে এই অঞ্চলে অপরাধের ধরন পাল্টেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হোয়াইক্যং, বাহারছড়া ও জালিয়াপালংয়ে তিনটি পৃথক পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন, তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়বে, টহল কার্যক্রম জোরদার হবে এবং স্থানীয় জনগণ দ্রুত আইনি সেবা পাবে, যা সীমান্তে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দাবিটি দীর্ঘদিনের। এটি বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে বলে তারা আশাবাদী।