• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
Headline
আদমদীঘিতে রাজ মিস্ত্রির বাড়ির ছাদে কবুতরের খামার সান্তাহারে ১০ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার শ্রীপুরে জমি দখলে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী কিশোরকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা মরহুম আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এমপি স্মৃতি আন্ত:জেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন আদমদীঘিতে দুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মুলক সভা শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন শ্রীপুরের কৃতি সন্তান অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাঁটাতারের বেড়ায় ২৮ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ; ভোগান্তিতে পথচারী শ্রীপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙল মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবার

ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে জেল খাটা সেই ইমাম মানসিক হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৪১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাসের বেশি কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫)। তবে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে মোজাফফরের সর্বশেষ অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন, ফেনীর মিথ্যা ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী সেই ইমাম সাহেবের একটি জরুরি আপডেট জানাচ্ছি। আমরা আগেই জেনেছিলাম, জেলে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এবং দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যে ভয়াবহ সাইকোসিস বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার হয়েছেন, তা আমাদের জানা ছিল না।

তারেক রেজা জানান, ওই রাতে থাকার জন্য মোজাফফরকে তার ছোট ভাই ইমনের বাসায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তিনি হঠাৎ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন এবং ইফতি ও ইমনের ওপর চড়াও হয়ে মারধর ও কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় ঢুকেও তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন।

তারেক রেজা আরও জানান, ইমন বিষয়টি জানালে আমি দ্রুত সেখানে উপস্থিত হই। একপর্যায়ে তিনি আমাকেও আঘাত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে আমরা তাকে বেঁধে ফেলি এবং ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মোজাফফরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় এবং ইনজেকশন দেয়ার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে জানান তারেক রেজা।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি তার অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে হাসপাতালেই আছি। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় এবং আমি তার লিগ্যাল গার্ডিয়ান না হওয়ায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি করানো যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে ইমাম সাহেবের বাড়িতে যোগাযোগ করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার পরিবার এসে পৌঁছালে ইনশাআল্লাহ তাকে একটি ভালো হাসপাতালে ভর্তি করাবো।

পোস্টে তারেক রেজা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশালকে। তিনি লেখেন, রাত ৪টার সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং তিনি ইমাম জুবায়েরকে সারাজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে এর উত্তম প্রতিদান দেবেন।

মোজাফফর আহমদ পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় এক কিশোরীর করা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি ৩২ দিন কারাগারে ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে হওয়া ডিএনএ পরীক্ষায় কিশোরীর সন্তানের সঙ্গে তার কোনো জৈবিক সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category