তার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রায়।
ইরানের কোম প্রদেশের একটি রুদ্ধদ্বার আদালতে গত সপ্তাহে পারাস্তু আহমদি এবং তার ব্যান্ডের আরও আট সদস্য ও কলাকুশলীকে এই সাজা শোনানো হয়। ২০২৪ সালের একটি কনসার্টে ইরানি আইন অমান্য করে হিজাব ছাড়া, চুল ও হাত খোলা রেখে পারফর্ম করেছিলেন পারাস্তু।
ইউটিউবে সেই পারফর্ম্যান্সের ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। দোররা মারার পাশাপাশি আগামী দুই বছরের জন্য পারাস্তু ও তার সহকর্মীদের পারফর্ম করা এবং দেশ ছাড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে দুজন ইরানে ছিলেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামানো মাসব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর, সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’-এর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম এই রায়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি যেমন অমানবিক ও অপমানজনক, তেমনি এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি চুক্তির পর বর্তমান শাসনব্যবস্থা নারীদের ওপর দমনপীড়ন আরও বাড়াতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হন।