রোববার সকাল থেকে দিনভর বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের নিম্নাঞ্চলসহ নদ-নদীর পানি বাড়ছে। পাশাপাশি ভারতের মেঘালয় ও আসামের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বহুল পরিচিত ‘সাদাপাথর’ পর্যটন কেন্দ্রটি।
রোববার কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পাহাড়ি ঢলে সাদাপাথর তলিয়ে গেছে এবং স্রোত খুব বেশি হওয়ায় পর্যটকদের সুরক্ষায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে আবহাওয়ার উন্নতি ঘটলেই কেন্দ্রটি পুনরায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
রোববার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এই রেকর্ড ছিল ১৪২ মিলিমিটার, যার ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্লাবনের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারিবর্ষণ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে এবং আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নদী দুটির বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী তিন থেকে চার দিন সিলেট অঞ্চল ও এর উজানে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় এই মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত আরও অন্তত কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হলে সিলেটের নদ-নদীর পানি অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে, তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।