মেহেরপুরে যেন কোনোভাবেই কাটছে না বোমা আতঙ্ক। দুই দিনের ব্যবধানে আবারও জেলার গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে একটি বোমা সদৃশ বস্তু ও চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ। চলতি মাসে অন্তত পাঁচবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হানিফের বাড়ির মূল ফটকের সামনে থেকে চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। আব্দুল হানিফ মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলমের ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির সামনে লাল টেপে মোড়ানো একটি সন্দেহজনক বস্তু ও একটি চিরকুট পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে এবং ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটে কী লেখা ছিল সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও এখনো জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, বস্তুটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। সেটি বোমা কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। গাংনী উপজেলায় ঘটে যাওয়া এসব বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত বুধবার (৬ মে) সকালে তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজীপাড়া এলাকায় সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির মূল ফটকের সামনে চিরকুটে মোড়ানো বোমা বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়।