• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
Headline
মরহুম আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা এমপি স্মৃতি আন্ত:জেলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন আদমদীঘিতে দুর্গা পুজা উপলক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি মুলক সভা শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন শ্রীপুরের কৃতি সন্তান অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ শ্রীপুরে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাঁটাতারের বেড়ায় ২৮ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ; ভোগান্তিতে পথচারী শ্রীপুরে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙল মাদক ব্যবসায়ী ও তার পরিবার সান্তাহারে ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু  নিখোঁজ স্ত্রী সন্ধান চেয়ে স্বামীর থানায় জিডি; ১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি আদমদীঘিতে এনএসডিএস উদ্যোগে বির্তক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরন

চার কোটি টাকার চলন্ত পদচারী–সেতুটি ব্যবহার হয়েছে ২ মাস, এখন কী অবস্থা

জেলা প্রতিনিধি / ৭৭ Time View
Update : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬

সিঁড়ির বেশ কিছু ধাপ চুরি হয়ে গেছে। যেসব ধাপ অবশিষ্ট রয়েছে সেখানেও লোহার পাত ও রডে মরিচা ধরেছে। কিছু কিছু অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা কাচের টুকরা। অযত্নে-অবহেলায় থাকতে থাকতে সিঁড়িতে জন্ম নিয়েছে আগাছা। প্রবেশ ফটকেও ঝুলছে তালা।

চট্টগ্রাম নগরের প্রথম চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী–সেতুর (এসকেলেটর ফুটওভারব্রিজ) চিত্র এটি। সাড়ে ছয় বছর আগে প্রায় চার কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণ করেছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের পর প্রায় দুই মাস চালু ছিল চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী–সেতুটি। এরপর অচল অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে একপর্যায়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন কার্যত পরিত্যক্ত এক অবকাঠামোয় পরিণত হয়েছে বিপুল অর্থে নির্মিত সেতুটি।

তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আফছারুল আমীনের ইচ্ছায় এই স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে জানান সিটি করপোরেশনের ওই সময়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। সেতু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কাউকে দেখা যায়নি। নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের মতে, যে জায়গায় চলন্ত পদচারী–সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেটি উপযুক্ত জায়গা ছিল না। ফলে লোকজন সেটি ব্যবহার করেননি।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিঁড়িযুক্ত পদচারী–সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি এটি উদ্বোধন করেন সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর মাত্র দুই মাস চালু ছিল এটি। চালুর মাস দু-এক মাস পর করোনা মহামারি শুরু হয়। এ কারণে লকডাউনসহ বিধিনিষেধ দেওয়া হলে এটির পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ করেছিল সিটি করপোরেশন। পরবর্তী সময়ে মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চলন্ত পদচারী–সেতু পরিচালনায় বৈদ্যুতিক সংযোগ, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এসব কারণে চালুর পরপরই বন্ধ হয়ে যাওয়া নগরের একমাত্র ও প্রথম চলন্ত পদচারী–সেতুটি আর খোলা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী সেতুটিতে আগাছা জন্মেছে
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় চলন্ত সিঁড়িযুক্ত পদচারী সেতুটিতে আগাছা জন্মেছেছবি: জুয়েল শীল

চলন্ত পদচারী–সেতুটি বর্তমানে কী অবস্থায় আছে তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ধারণা কম। তাঁরা খোঁজখবর নেবেন বলেছেন। এদিকে চলন্ত পদচারী–সেতুর সঙ্গে যুক্ত সাধারণ পদচারী–সেতুটি খোলা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পথচারীরা রাস্তা পারাপারে এটি তেমন ব্যবহার করেন না। লোকজন এই পদচারী–সেতু এড়িয়ে আগের মতোই ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হন। সেতুর একটি অংশে ভাসমান মানুষের আনাগোনা রয়েছে।

পদচারী–সেতুর নিচে ছয় বছর ধরে রিকশার যন্ত্রাংশ সারানোর কাজ করেন মোহাম্মদ করিম। গত শনিবার বিকেলে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর দিকে সেতুটি কিছুদিন চলছিল। এরপর বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর চালু হয়নি। এভাবে পড়ে থাকতে গত এক-দুই বছর ধরে সেতুর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সেতুটি কিছু দূরে ওয়্যারলেস মোড়ে করলেও অন্তত চালু থাকত। কিছু মানুষ ব্যবহার করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিটি করপোরেশনের সেতু হলেও এটি কার্যত অভিভাবকহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আগাছা জন্মেছে, কিছু যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আর রোগীদের পারাপারের জন্য সেতু নির্মাণ করা হলেও রোগীরা সড়কের ওপর দিয়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন।

এই ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, জাকির হোসেন সড়কে একটি চলন্ত পদচারী–সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিস্তারিত জানা নেই তাঁর। তিনি প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে যোগাযোগ করা হলে প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের রোগীসহ পথচারীদের সহজভাবে পারাপারের জন্য বেশ কয়েক বছর আগে চলন্ত পদচারী–সেতুটি একসময় নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ এটি ব্যবহার করেন না। সবাই সড়ক দিয়ে পারাপার করেন। সেতুটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন বলে জানান তিনি।

নগরবাসী নয়, অন্য কেউ লাভবান হয়েছেন

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, নগরে পথচারীদের পারাপারের জন্য পদচারী–সেতু খুব জরুরি দরকার। তবে তা নির্মাণ করতে হবে এমন জায়গায়, যেখানে প্রচুর মানুষের চলাচল রয়েছে। কিন্তু জাকির হোসেন সড়কের যে স্থানে চলন্ত পদচারী–সেতুটি করা হয়েছিল সেটি উপযুক্ত স্থানে করা হয়নি। কেননা সেখানে মানুষের তেমন যাতায়াত নেই। আবার পথচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বন্ধে কোনো প্রতিবন্ধকতা বা বিভাজকও নেই। তাই মানুষ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন।

সেতুটির কিছু যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি তোলা
সেতুটির কিছু যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সম্প্রতি তোলাছবি: জুয়েল শীল

প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চলন্ত পদচারী–সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা তদারকির বিষয় আছে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তা ঠিকভাবে পালন করা হয়নি। ভুল জায়গায় স্থাপনের কারণে পথচারী বা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই পদচারী–সেতু নিয়ে আগ্রহ ছিল না। তিনি বলেন, এ কারণে চার কোটি টাকা ব্যয় করে সেতু করা হলেও নগরবাসী উপকৃত হননি। তবে এই সেতু নির্মাণ করে নিশ্চয় কেউ না কেউ লাভবান হয়েছেন। জনগণের কথা চিন্তা না করে এভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ নষ্ট হয়েছে। দিন শেষে কোনো সুফল আসেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category