বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার নাফ নদীতে দিনে-দুপুরে আরএসও (Rohingya Solidarity Organisation) সদস্যদের সশস্ত্র টহলের অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর বাংলাদেশ অংশে মাছ ধরতে পারছেন না স্থানীয় জেলেরা। জীবিকা হারিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় জেলে ও সচেতন মহলের অভিযোগ, ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ৮-৯ জনের সশস্ত্র গ্রুপ নাফ নদীর জিরো পয়েন্ট ও বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে। জেলেরা মাছ ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, জাল ও নৌকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এলাকার কয়েকজন জেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে নাফ নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আরএসও পরিচয় দেওয়া কিছু লোক নদীতে মহড়া দিচ্ছে। তাদের ভয়ে আমরা নদীতে নামতে পারছি না।”
স্থানীয়দের দাবি, এই সুযোগে নদীপথকে ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপহরণ ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, নাফ নদীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত নদীতে এভাবে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কোথায়? নদী কি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে? অতি দ্রুত এই সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনলে টেকনাফ-উখিয়ার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বিজিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, নাফ নদীতে তাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত আছে এবং এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তারা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয়রা নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের যৌথ টহল জোরদার এবং অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।