চীন থেকে বাংলাদেশের জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ও বেইজিংয়ের কাছ থেকে তিস্তা প্রকল্পে সমর্থনের আশ্বাসের মতো চীন-বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ খবরের ওপর গভীর নজর রাখছে ভারত। শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা প্রতিবেশ অঞ্চলে এই ধরণের সমস্ত ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিন সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, আমরা আমাদের প্রতিবেশ অঞ্চলের এই ধরণের সমস্ত উন্নয়ন বা ঘটনাবলী নিবিড়ভাবে অনুসরণ করি ও প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীটি দীর্ঘ সময় ধরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিশেষ করে পানি বণ্টন এবং নদী ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে আলোচনার একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি চীন সফর করেছেন এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল তিস্তা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছিলেন যে, এই ধরণের বিষয়গুলো ঢাকার সাথে ‘সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা’ ও নিয়মিত বিরতিতে আলোচনা করা হচ্ছে।
তিনি আগের এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, তিস্তার বিষয়ে বলতে গেলে, ভারত ও বাংলাদেশ ৫৪টি নদী ভাগাভাগি করে। পানি সংক্রান্ত সমস্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমাদের সুসংগঠিত দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে ও এই ব্যবস্থাগুলোর অধীনে নিয়মিত বিরতিতে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফারাক্কা ব্যারেজে শুষ্ক মৌসুমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টন মূলত ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে কম পানির মাসগুলোতে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত পানি না ছাড়ার অভিযোগ তোলে, যা ভাটির অঞ্চলের কৃষি ও মানুষের জীবিকাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাওয়ায় এই বিরোধগুলো আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করে এলেও, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নিজস্ব পানির চাহিদার অজুহাতে বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় এই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি বড় চেষ্টা করা হয়েছিল। সেসময়ে প্রস্তাবিত চুক্তির লক্ষ্য ছিল তিস্তার পানির ৩৭.৫ শতাংশ বাংলাদেশকে ও ৪২.৫ শতাংশ ভারতকে বরাদ্দ দেওয়া। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি তাদের নিজস্ব কৃষি স্বার্থের ক্ষতি করবে।
এর আগে ১৯৮৩ সালে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়ে একটি অ্যাড-হক (সাময়িক) চুক্তি হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের জন্য ৩৬ শতাংশ ও ভারতের জন্য ৩৯ শতাংশ পানি প্রবাহ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেইসঙ্গে বাকি ২৫ শতাংশের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল। তবে সেই চুক্তিটিও কখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।