• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন

পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগীদের সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের ভেতরে দুই রোগীর মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২ জুন গভীর রাতে হাসপাতালের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভেতরে এ ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার খোঁজাখালি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে নাজমুল ইসলাম (২৮) এবং ঝিনাইদহের রাজনগর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর ছেলে ইনজামুল হককে (২৬) অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত ৩টার দিকে ওই রোগীর মধ্যে হঠাৎ করেই মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইনজামুল। এ ঘটনায় অপর রোগী নাজমুলও গুরুতর আহত হন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ইনজামুলের ভাই ইজাজুল হক বাদী হয়ে গত ৩ জুন পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ইজাজুল হক বলেন, যে ছেলেটা আমার ভাইয়ের সঙ্গে মারামারি করেছে, সেও তো মানসিক রোগী। এমন দুজন রোগীকে তারা কিভাবে একসঙ্গে রাখল? যখন তারা মারামারি করছিল, তখন কেন কেউ থামাতে পারল না?

নাজমুলের বাবা আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, ঘটনার পর হাসপাতালের লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারিন্টেনডেন্ট রেখা আক্তার জানান, অনেক সময় রোগীদের দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও তারা হঠাৎ চরম সহিংস আচরণ শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে অল্পসংখ্যক নার্সের পক্ষে রোগীকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। হাসপাতালে পুরুষ সেবাকর্মীর তীব্র সংকট রয়েছে এবং মানসিক রোগী সামলানোর জন্য আলাদা কোনো প্রশিক্ষণ বা ঝুঁকিভাতা নেই।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাফকাত ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যে রোগীরা মারামারি করেছেন তারা আগেও এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বিধায় কেউ বুঝতে পারেনি।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তিও একজন মানসিক রোগী, তাই মামলা দায়েরের পর আমরা আদালত ও মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে নির্দেশনা বা করণীয় সম্পর্কে জানার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category