• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্য খাত এক ‘ডিজাস্টার’: ডা. শফিকুর রহমান

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে নেই এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুমূর্ষু শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতিকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক ‘ডিজাস্টার’ বা বিপর্যয়ের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে হাসপাতালের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালে ৫০টি বেড নিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতালে এখন বেড সংখ্যা ৭০০। কিন্তু সারা দেশ থেকে রেফার হয়ে আসা জটিল রোগীদের চাপে বিপুল সংখ্যক রোগীকে ভর্তি না করতে পেরে ফেরত দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সংকট ভয়াবহ।

তিনি বলেন, এখানে নিউবর্ন বেবি বা নবজাতকদের জন্য আইসিইউ (এনআইসিইউ) ও পিআইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করার ব্যবস্থা নেই। মুমূর্ষু শিশুদের এসব পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় ঝুঁকি বিবেচনায় পাঠানো সম্ভব হয় না, ফলে সঠিক চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের কাছ থেকে অনুদান পায়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে সরকার বছরে ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিলেও গত বছর তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাজেট যখন প্রতি বছর বাড়ছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ কমানো হলো কেন? আমরা ইনশাআল্লাহ সংসদে আমাদের শিশুদের জন্য এবং এই বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলব।

দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, পুরা স্বাস্থ্য খাতটি এখন একটি ডিজেস্টার। কয়েক দিন আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যা দেখেছি, তাকে হাসপাতাল না বলে ‘বাজার’ বলা ভালো। ১০০০ বেডের বিপরীতে সেখানে ৩০০০-৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। প্রয়োজনীয় ম্যানপাওয়ার ও লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই দুই খাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা ও লাঞ্ছনা করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমান হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি ‘ব্রঙ্কোস্কোপ’ যন্ত্রের চাহিদার কথা জানতে পারেন। তিনি বলেন, শিশুরা আমাদের কাছে আমানত, তারাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের সামর্থ্যের মধ্য থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্র সরবরাহ করার চেষ্টা করব। রাজনীতি মানেই শুধু সরকারি ফান্ড দিয়ে কাজ করা নয়, বরং নিজের পকেটের পয়সা দিয়েও জনগণের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো।

তিনি বলেছেন, দেশের হাম পরিস্থিতির অবস্থা দেখতে এসে যা দেখলাম তা উদ্বেগজনক। হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পুরো স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে এক নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলোকে এখন আর সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হামের মতো ব্যাধির চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে কোনো আইসিইউর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের অনেক কিছু কিতাবে ও খাতায় আছে, কিন্তু আমরা সেগুলো বাস্তবে দেখতে চাই। জরুরি অবস্থা কখনো নোটিশ দিয়ে আসে না, কিন্তু সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় তারা নির্বিকার।

সংসদে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলব। অথচ সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। তারা বাস্তবতাকে আড়াল করতে চাইছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category