• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত সম্পদ মানুষের মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে, জানলে অবাক হবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আমরা অনেকেই ভাবী, যাঁদের অনেক অর্থসম্পদ, তাঁরা নিশ্চয়ই অনেক সুখী। টাকা থাকলে জীবন নিশ্চয়ই অনেক সহজ হয়। তবে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ বলছে, অতিরিক্ত সম্পদ মানুষের চিন্তা, আচরণ, এমনকি মস্তিষ্কের চিন্তা ও কাজের ধরন বদলে দিতে পারে। আর তা সুখী আর সন্তুষ্ট হওয়ার পথে বাধা তৈরি করে। চট করে জেনে নেওয়া যাক, অতিধনী বা উচ্চবিত্তদের কয়েকটি পরিচিত মানসিকতায়।

১. সহানুভূতি কমে যেতে পারে

ধনীরা অনেক সময় অন্যদের কষ্ট কম অনুভব করেন। কারণ, তাঁরা সাধারণ মানুষের সংগ্রাম থেকে দূরে থাকেন। বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁদের ঝুলিতে খুবই কম থাকে। ফলে অন্যের দুঃখ বোঝার ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

২. নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা

অতিরিক্ত সম্পদশীল মানুষকে সমাজের অন্যরা সামনাসামনি হলেও গুরুত্ব দেয় বেশি। অনেক সময় মানুষকে এমন ভাবতে বাধ্য করে, আমি অন্যদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে তাঁদের ভেতর ইগো বা অহংবোধ বাড়ে। তাঁরা নিজের মতামতকেই বেশি সঠিক মনে করেন। আর এভাবেই তাঁরা বিচ্ছিন্ন হতে শুরু করেন।

৩. ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে

ধনী ব্যক্তিরা অনেক সময় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কেননা, তাঁদের হারানোর ভয় থাকে খুবই কম। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও অনেক ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ায় তাঁরা অনেকটা ‘যা খুশি তাই’ করেন।

৪. সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়

অতিরিক্ত সম্পদ মানুষকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। এই মানুষেরা সাধারণ মানুষের জীবন থেকে দূরে সরে যান। ‘ক্ল্যাসিস্ট’ মনোভাবের অধিকারী হন। নিজের শ্রেণির মানুষ ছাড়া অন্যদের কম মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করার একটা প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এতে সমাজের অন্য অংশের সঙ্গে সংযোগ কমে যায়। ফলে সমাজের বেশির ভাগ অংশের বাস্তবতা থেকে তাঁরা বেশ খানিকটা রয়েসয়ে, গা বাঁচিয়েই জীবন কাটিয়ে দেন। ধনী মানুষের জন্য, অনেক সমস্যা কোনো সমস্যাই নয়! কারণ, তাঁরা কোনো দিন সেই সমস্যাগুলোর ভেতর দিয়ে যাননি। নিজের জীবনে অনুভব করেনি।

৫. অতিধনীরা অতি একাকিত্বে ভোগেন

শিরোনামের অংশটি কোনো মনগড়া কথা নয়। বরং বেশ কিছু গবেষণায় এর সত্যতা মিলেছে। অত্যন্ত ধনীরা সত্যিকারের সম্পর্কের অভাবে থাকেন। অনেক ধনী মানুষের বিশ্বাস, অন্যরা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন কেবলই টাকা বা তাঁদের ব্যক্তিগত ফায়দার জন্য। আস্থা, ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের জন্য নয়। আর ঠিক এই কারণেই অতিধনীরা অনেক ধরনের মানসিক সংকটে ভোগেন। এর ফলে অতিধনীদের ভেতর সম্পর্ক নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি হয় বা সম্পর্কে আস্থা রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়, একাকিত্ব বাড়ে, ‘কে সত্যিকারের বন্ধু’, সেটা বুঝতে পারা কঠিন হয়ে যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, সব ধনী মানুষ এক রকম নন। অনেক ধনী মানুষ অত্যন্ত সহানুভূতিশীল আর উদার মনের অধিকারী। সমাজের জন্য কাজ করেন। অন্যকে সাহায্য করতে বা দান-খয়রাতে এগিয়ে আসেন। অনেকে আবার শ্রেণিবৈষম্যের তোয়াক্কা না করে বেশ সামাজিক জীবন যাপন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category