• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

স্ট্রংরুম ঘিরে রাতের নাটক, ইভিএম নিয়ে মমতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ Time View
Update : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

ভোটগ্রহণ শেষ হলেও উত্তেজনার পারদ নামেনি রাজ্যের রাজনীতিতে। বরং গণনার আগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে স্ট্রংরুম এবং ইভিএমের নিরাপত্তা।

এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তার এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে রাখা হয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। রাত প্রায় আটটা নাগাদ সেখানে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘ সময় ভিতরে কাটান। রাত প্রায় ১২১টার সময় তিনি বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন।

তিনি বলেন, অভিযোগকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইভিএম ম্যানিপুলেশনের অভিযোগ তার কাছে পৌঁছেছিল। সেই খবর পেয়েই তিনি সরাসরি স্ট্রংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

তার কথায়, প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাকে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী প্রার্থী হিসেবে তার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।

ইভিএম কারচুপি প্রসঙ্গে, সরাসরি কোনও সিদ্ধান্তমূলক মন্তব্য না করলেও মমতা স্পষ্ট করে দেন যে, অভিযোগ পাওয়ার পর দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি নিজে গিয়ে দেখেছেন।

তিনি জানান, গণনা প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করাই তার উদ্দেশ্য। তবে শুধু ইভিএম নয়, এদিন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাজ্য পুলিশ যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করতে না পারে, তাহলে সেটি তাদের ব্যর্থতা। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পুলিশের ওপর বাইরের কোনও চাপ কাজ করতে পারে। তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

স্ট্রংরুমে থাকার সময় বাইরেও উত্তেজনা চরমে ওঠে।

তৃণমূলের লোগো লাগানো একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগান শুরু হয়।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় নন, বাইরে থেকে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, চাইলে তিনি নিজে কয়েক হাজার মানুষকে সেখানে জড়ো করতে পারেন, কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চান না।

অন্যদিকে, উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রেও একই ধরনের অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম রয়েছে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএম নিরাপদ নয় এবং বহিরাগতদের প্রবেশ ঘটেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল প্রার্থীরা ধর্নায় বসে পড়েন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন সেখানে বিজেপি প্রার্থীরাও উপস্থিত হন। দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইভিএম বা পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনও ধরনের কারচুপি হয়নি। সমস্ত কাজ নিয়ম মেনে এবং প্রার্থীদের উপস্থিতিতে করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। তবুও রাজনৈতিক উত্তেজনা থামেনি। গণনার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও তপ্ত করে তুলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থার উপর নজর আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, গণনার দিনে এই উত্তেজনার প্রভাব কতটা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির বাস্তবতা কতটা সামনে আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category