ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। অগ্রিম টিকিট না পেলেও ট্রেনে বাড়ি ফেরার আশায় স্টেশনে ভিড় করছেন অনেক যাত্রী। ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে বিক্রি হওয়া স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করেন। আসন না পেলেও অন্তত ট্রেনে উঠতে পারছেন, এতেই সন্তুষ্ট অধিকাংশ যাত্রী।
জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৪টি স্ট্যান্ডিং টিকিট পেয়ে খুশি দেখা গেছে হেদায়েতুল ইসলামকে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই চাপের মধ্যে আজ স্টেশনে এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট পাবো এটা ভাবিনি। আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যে টিকিট পেয়েছি তাতেই খুশি। ঈদের সময় বাসে ভাড়া বেশি ও সড়কে যানজট থাকে। তাই দাঁড়িয়ে গেলেও ট্রেনেই যেতে চাই।
এদিকে তিতাস কমিউটার ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইন কাউন্টার ছাড়িয়ে পার্কিং এরিয়া পর্যন্ত চলে গেছে। লাইনের শেষ মাথার দিকে কথা হয় রেদোয়ানের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাব। এই ট্রেনের টিকিট তো ট্রেন ছাড়ার আগে দেয়। এজন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে অন্তত ২০০ জন মানুষ আছে। সিট তো পাবোই না, দাঁড়িয়ে যাওয়ার একটি টিকিট করতে পারলেই হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছেন, যাত্রীচাপ সামাল দিতে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
গতকাল পরিদর্শনে এসে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য আমাদের যে ট্রেনের সংখ্যা সেটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন যাত্রার সুযোগ করে দিতে পারি। ঈদ উপলক্ষ্যে আরও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৪ হাজারের মতো যাত্রী যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারি। লাখ লাখ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। সেটা একটু চ্যালেঞ্জ।