• শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন

বগুড়ায় দখলমুক্ত হলো সরকারি স্কুলের জমি, অপসারণ মার্কেট

জেলা প্রতিনিধি / ২ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতক জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই জমি অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে আসছিল একটি প্রভাবশালী চক্র।

শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের এই জমি দখলকারীদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন। তার একার দখলেই ছিল প্রায় ২০ শতক জমি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ধরে জোরপূর্বক সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা বাণিজ্য করেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ের জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আনেন। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়ার পর আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমরা স্কুলের এ অবৈধ দখলকৃত জায়গাটি উদ্ধারে বহু জায়গায় ধরনা দিয়েও নিরাশ হয়েছিলাম। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ ছিল। কিন্তু একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভরেছে। বিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করে পুনরায় স্কুলের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রশংসার দাবিদার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হকসহ অভিযুক্ত অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে দখলের প্রমাণ পাওয়ায় আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category