• শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরক নন, উন্নয়নের অংশীদার: সাখাওয়াত হোসেন শরীফ

Reporter Name / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে পরিচিত প্রবাসী শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী ও রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সাখাওয়াত হোসেন শরীফ। তিনি মনে করেন, কেবল সাময়িক প্রণোদনা নয়, বরং প্রবাসীদের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং টেকসই কল্যাণমুখী নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি প্রবাসীদের আবাসন, পেনশন এবং আইনি সুরক্ষা নিয়ে নতুন এক রূপরেখা তুলে ধরেন। সাখাওয়াত হোসেন শরীফ জানান, প্রবাসীরা জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও দেশে ফেরার পর অনেক সময় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। তিনি প্রস্তাব করেন, সরকার বর্তমানে রেমিট্যান্সের ওপর যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, তার একটি অংশ এবং সরকারের অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে একটি প্রবাসী পেনশন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। তবে এই অর্থ কোনোভাবেই প্রবাসীদের মূল আয় থেকে কর্তন করা যাবে না। বরং একে প্রণোদনাভিত্তিক একটি কাঠামোর আওতায় আনতে হবে, যাতে প্রবাসীরা বৈধ পথে টাকা পাঠাতে আরও উৎসাহিত হন এবং শেষ বয়সে একটি আর্থিক নিশ্চয়তা পান।

দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য সহজ শর্তে আবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রবাসী। তিনি বলেন, সরকারি প্লট বা ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভাড়ার টাকায় মালিকানা মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। যারা নিয়মিত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিস্তিতে এই ফ্ল্যাটগুলো প্রদানের সুবিধা দিলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হবে। এতে একদিকে যেমন আবাসন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে হুন্ডি প্রতিরোধে এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।

প্রবাসে অনেক সময় শ্রমিকরা দূতাবাসের সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা বা প্রতিকূল আচরণের সম্মুখীন হন। এই সংকট উত্তরণে প্রতিটি শ্রমবাজারে সরকারি পর্যায়ে (G2G) চুক্তির মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র ও জবাবদিহিমূলক সমস্যা সমাধান ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, একটি কার্যকর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতারণা রোধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান শরীফ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র গ্রেডিং পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। এর পরিবর্তে প্রতিটি এজেন্সির জন্য অটোমেটেড ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন চালু করতে হবে। কর্মী পাঠানোর পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেই কর্মীর দেখভালের দায়ভার এজেন্সিকে নিতে বাধ্য করতে হবে।

সাখাওয়াত হোসেন শরীফ আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের শুধু রেমিট্যান্স প্রেরক হিসেবে না দেখে ‘উন্নয়নের অংশীদার’ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category