• বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন

এপস্টেইনের ‘শেষ চিরকুট’ ঘিরে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক একটি নথি প্রকাশ করেছেন, যেটিকে প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের লেখা সুইসাইড নোট বা আত্মহননের চিরকুট বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) এই নথি প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্সের।

কুখ্যাত এই অর্থ লগ্নিকারী ও যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের আগস্টে ম্যানহাটনের জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পরে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত নথি অনুসারে—এতে লেখা আছে, পৃথিবীকে ‘বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়।’

হাতে লেখা এই নোটটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট (একই কক্ষে থাকা বন্দি), খুনের দায়ে দণ্ডিত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন খুঁজে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই নোটটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর টারটাগ্লিওনের মামলা তদারককারী মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এটি প্রকাশ করেন।

বিচারক কারাস রায় দেন, নোটটি একটি ‘বিচার বিভাগীয় নথি’ হিসেবে গণ্য এবং এটি জনগণের দেখার অধিকার রয়েছে। কারণ, এটি টারটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে জমা দেওয়া হয়েছিল। টারটাগ্লিওন মাদক সংক্রান্ত খুনের ঘটনায় টানা চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

বিচারক এটিকে সিলমোহর করে রাখার কোনো আইনি কারণ খুঁজে পাননি। তবে তিনি এই নোটের সত্যতা নিশ্চিত করেননি কিংবা এটি কার কার হাত ঘুরে এসেছে (chain of custody) তাও মূল্যায়ন করেননি। বরং নথিটি উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক বলে গণ্য করেছেন।

বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘এমন কোনো পালটা বিবেচনা শনাক্ত করা যায়নি যা নোটটি সিলমোহর করে রাখাকে সমর্থন করে।’

হলুদ লিগ্যাল প্যাডে লেখা এই নোটটি টারটাগ্লিওনের আইনজীবীরা আদালতে জমা দিয়েছিলেন। টারটাগ্লিওন ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ম্যানহাটন জেলে এপস্টেইনের সেলমেট ছিলেন। আদালতের নথিতে প্রকাশিত ছবির তথ্য অনুযায়ী, নোটটিতে লেখা আছে, ‘তারা আমার ব্যাপারে কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেছে—কিন্তু কিছুই পায়নি!!! যার ফলাফল হলো ১৫ বছর আগের এই অভিযোগগুলো। বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়। তোমরা আমার কাছে কী চাও—আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব!! এতে কোনো মজা নেই—এটা এর যোগ্যও নয়!!’

এপস্টেইন ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সংসর্গের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে সেই মামলা বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তির কারণে তার স্বল্পমেয়াদী জেল হয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সংগ্রহ ও নির্যাতনের অভিযোগে যৌন পাচারের মামলা দেওয়া হয়।

নোটটি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে প্রথম সামনে আসে। তার কয়েকদিন আগেই এপস্টেইনকে তার ম্যানহাটন জেলের কক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ সেটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছিল। টারটাগ্লিওনের জনসমক্ষে দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, নোটটি তাদের কক্ষের একটি বইয়ের ভেতরে লুকানো ছিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ২০১৯-এ এপস্টেইন একটি পৃথক ঘটনায় মারা যান, যা পরে আত্মহত্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়।

টারটাগ্লিওন গত বছর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই নোটের কথা উল্লেখ করেছিলেন, কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক টাইমসে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা এই নোটটি কখনও দেখেননি এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন সংক্রান্ত লাখ লাখ নথির মধ্যেও এটি ছিল না।

নথিটি উন্মুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো খারিজ করে দেন। তিনি এপস্টেইনের মৃত্যু এবং এই কথিত নোটটি নিয়ে জনসমক্ষে চলমান ব্যাপক আলোচনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category