• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন

আন্দোলনের মুখে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা স্থগিত, সম্ভব হয়নি অনলাইনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫ Time View
Update : সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালের দাবিতে দিনভর উত্তেজনা ছিল দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ঘিরে

নতুন নিয়োগ পাওয়া ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের যোগদান উপলক্ষ্যে ডাকা পরিচালনা পর্ষদের সভা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের তীব্র আন্দোলনের মুখে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সশরীরে সভা আয়োজনে ব্যর্থ হয়ে পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে অনলাইনে সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হলে বিক্ষোভকারীদের চাপের কারণে সেটিও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।

আজ (সোমবার) দিনভর উত্তেজনা, পুলিশ-গ্রাহক সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের মধ্যেই ভেস্তে যায় ব্যাংকটির পূর্বনির্ধারিত পর্ষদ সভা। রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও পুলিশ-গ্রাহক সংঘর্ষের মধ্যে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দুপুর আড়াইটায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে হাজার হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার অবস্থান নেওয়ায় সশরীরে সভা আয়োজন সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে সভা আয়োজনের অনুমতি দেয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অনলাইন সভার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন। এমনকি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কক্ষের সামনেও বিক্ষোভ করেন তারা। ফলে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনোভাবেই পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে সকালে ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। তবে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হলেও পরে পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংকটিকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করার দাবিও জানান।

গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারে শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা জানান।

তবে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে মতিঝিলের ব্যাংকিং কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিলেন। তাদের একাধিকবার সরে যেতে বলা হলেও তারা তা মানেননি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কোনো ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আন্দোলনের চাপে নেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মত প্রকাশ বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, ঈদের আগে ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই একাংশের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা এ নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন। ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রাজধানীতে বৃহৎ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category