• সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

শিশু অপহরণ ও হত্যার রায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি / ৩৩ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

বগুড়ার শাজাহানপুরে আট বছরের শিশু রিফাত হোসেনকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও হত্যা করে সেতুর নিচে লাশ গুমের মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপরাধের সময় পাঁচজন শিশু থাকায় তাদের ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়।

রোববার দুপুরে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় দিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ, খাদাস ভাবুকনারপাড়ার মিলন হোসেনের ছেলে সেলিম ইসলাম, খাদাস তালুকদারপাড়ার মিলন হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান, খাদাস মাঠপাড়ার মৃত আবদুল জলিলের ছেলে রাজু মিয়া ওরফে পাঁচফুল এবং খাদাস ভোলাগাড়ীর জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাগর মিয়া। এদের মধ্যে সাগর মিয়া ও সেলিম ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন।

আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু হিসেবে সাজাপ্রাপ্তরা হলো-বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হেসেন।

 

মামলা ও আদালত সূত্র জানায়, শিশু রিফাত হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা গ্রামের প্রবাস ফেরত এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই নিহতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিত। আসামি আবুল কালাম আজাদ মাঝে মাঝে এনামুল হকের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনেও এক লাখ টাকা দাবি করলে এনামুল তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

 

গত ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই রাত সোয়া ৮টার দিকে শিশু রিফাত বাবা এনামুল হকের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে আসামিরা তাকে অপহরণ করেন। পরবর্তীতে আসামি আবুল কালাম আজাদ শিশুর পরিবারকে জানায়, রিফাত তাদের হেফাজতে আছে। এ সময় মুক্তিপণ হিসাবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

ওই বছরের ১৮ জুলাই সকাল ৮টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার পোয়ালগাছা গ্রামের সিংহবাড়ি সেতুর নিচে কচুরিপানার নিচে শিশু রিফাতের লাশ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ পর্যায়ক্রমে সব আসামিকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত পাঁচ শিশু ছিল।

 

পরবর্তীতে তিন শিশুসহ নয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামিদের মধ্যে মাসুদ রানা নামে একজন মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলার কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।

 

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে রোববার দুপুরে বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আনোয়ারুল হক প্রাপ্ত বয়স্ক পাঁচ আসামির মধ্যে দুইজনের অনুপস্থিতিতে ও ঘটনার সময় শিশু পাঁচজনের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। প্রাপ্তবয়স্ক পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদি কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা সাপেক্ষে তাদের শাস্তি কার্যকর হবে।

 

এছাড়া অপরাধের সময় শিশু পাঁচজনকে শিশু আইনে ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়। সবাই আগামী সাত দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। এছাড়া পলাতক দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে।

 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিশুর বাবা ও মামলার বাদী এনামুল হক জানান, এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। উচ্চ আদালতে এ রায় যেন বহাল এবং দ্রুত সাজা কার্যকর করতে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দ্রুত সাজা কার্যকর হলে অপরাধীরা আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি করতে পারবে না।

বগুড়ার প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আলী আসগার জানান, ১০ আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন ধারায় যাবজ্জীবন ও মেয়াদি সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক দুইজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং তাড়াতাড়ি যেন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category