সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ধর্মের দেয়াল ভেঙে ভালোবাসার টানে মাদারীপুর থেকে মাগুরার শ্রীপুরে ছুটে এসেছেন অনন্যা (ছদ্মনাম) নামে এক খ্রিষ্টান তরুণী। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার টুপিপাড়া গ্রামে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মুসলিম তরুণী তুলি (ছদ্মনাম) এর বাড়িতে এখন অবস্থান করছেন তিনি। দুই বছর ধরে চলা গভীর প্রেমের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনেই তারা বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বলে দাবি করছেন। এখন তারা একে অপরকে ছাড়া বাঁচবেন না এবং সংসার করতে চান বলে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাগুরার শ্রীপুরের দশম শ্রেণির ছাত্রী তুলি গত সপ্তাহে হুট করেই নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও দীর্ঘ ৫ দিন তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের ঠিক ৫ দিন পর তুলিকে পরিবারের লোকজন নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। এর কিছুদিন পর সোমবার রাতে মাদারীপুর জেলার রাজৈর এলাকা থেকে ছুটে আসা খ্রিষ্টান ধর্মের তরুণী অনন্যা।
অনন্যা জানান, তাদের মধ্যে বিগত দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা মুঠোফোনে বিয়েও করেছেন।
বর্তমানে তারা তুলির বাড়িতেই অবস্থান করছেন। দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তরুণীর এমন গভীর সম্পর্ক, মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একসাথে সংসার করার অনড় সিদ্ধান্তের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরাসহ দূর-দূরান্তের মানুষ তাদের দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে বিষয়টি অনন্যার মাদারীপুরের পরিবারকে জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ব্যতিক্রমী ও সংবেদনশীল ঘটনার পর পরবর্তী আইনি বা সামাজিক পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।