• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন

দাম যাচাইয়ে ব্যস্ত ক্রেতারা, নজর ছোট-মাঝারি গরুতে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। তবে হাট ও হাটের বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ জমে ওঠেনি।

শুক্রবার (২২ মে) ছুটির দিন হওয়ায় বিকেলে কোরবানির পশুর হাটে কিছু আগ্রহী ক্রেতা ভিড় করেছিলেন। তবে সেভাবে বেচাকেনা হতে দেখা যায়নি।

শুরুতেই পশুর দাম নিয়ে বিক্রেতাদের কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেছে। হাটে যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই বাজার দেখে-শুনে ফিরে যাচ্ছেন। আজ শুক্রবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উত্তর শাহজাহানপুর অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এ হাটে প্রতিবছরের মতো জামালপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে পশু আসেছে। হাট ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানের ধারণা, এখন পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ হাজার গরু এসে পৌঁছেছে। প্রতিবছর এ হাটে কম-বেশি দশ হাজারের মতো পশু বিক্রির জন্য আনা হয়।

তবে বিক্রেতাদের দাবি— হাটে পশুর সরবরাহ প্রচুর থাকলেও সেই তুলনায় এখনো জমেনি বেচাকেনা। ক্রেতারা মূলত হাটের পরিস্থিতি দেখছেন এবং দাম যাচাই করছেন।

শাহজাহানপুর মূল মাঠসহ আশপাশের রেলওয়ে কলোনি এলাকার ফাঁকা জায়গার প্রায় পুরো এলাকা শামিয়ানা টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে হাজারও গরু। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ক্রমাগত এ হাঁটে গরু আমদানি হবে, বিক্রিও হবে সমান তালে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে হাটের মূল আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে বেশ কিছু বিশাল আকৃতির গরু।

জামালপুর থেকে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন বজলুর রহমান। জাগো নিউজকে তিনি জানান, গত বুধবার তিনি গরুগুলো এনেছেন। এরমধ্যে তিনি একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন।

বজলুর রহমান বলেন, জিনিসপত্রের যে দাম, মানুষের হাতে টাকা নেই। যে কারণে বড় গরুর বিক্রি হবে না- এটা আমার ধারণা। যে কারণে ছোট ও মাঝারি গরু এনেছি। এরমধ্যে কাল একটা এক লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এবার বেচাকেনা হবে ২৫ তারিখ (মে) থেকে। কারণ, ঢাকার অধিকাংশ মানুষের গরু রাখার জায়গা নেই। তাই সবাই শেষ সময় গরু কিনতে চায়।

এনামুল হক গরু এনেছেন কুষ্টিয়া থেকে। তিনি এ নিয়ে সাত বছর এ হাটে আসছেন। জাগো নিউজকে এনামুল বলেন, এখনই মোটামুটি আমদানি ভালো হয়েছে। আরও গরু আসার সময় আছে। তবে সে তুলনায় ক্রেতা নেই।

হাট ঘুরে দেখা গেছে, পুরো হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। চার থেকে সাড়ে চার মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম দেড় লাখ টাকার ওপর হাঁকছেন বিক্রেতারা।

মিনু মিয়া নামের এক বিক্রেতা বলেন, এখনো হাটের হাবভাব বুঝতে পারছি না। দাম চাইছি একটা। দেখি ক্রেতারা কী বলে।

বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের চেয়ে তারা এবার প্রত্যন্ত এলাকার খামারিদের থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দামে গরু কিনেছেন।

বাসাবো থেকে হাটে এসেছেন আব্দুল বারি। জাগো নিউজকে এ ক্রেতা বলেন, এসেছিলাম বাজার কেমন দেখতে, দামে হলে কিনে ফেলবো। কিন্তু বাজার অনেক চড়া মনে হচ্ছে। যে গরুর দাম এক লাখ ৭০ হাজার টাকা চায়, সেটা আমার কাছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ঠিক মনে হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি গরুর দাম ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি বলছেন বিক্রেতারা।

হাটে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, তিনদিন হলো এ হাটে গরু হাসিল হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫০টার কাছাকাছি পশু বিক্রি হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত মূল বেচাকেনা শুরু হবে রোববারের পর থেকে। তবে এবার ​পশুর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় বেশি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category