• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

মেয়ে শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠায় পরিবারকে হতে হবে আরও সচেতন

লাইফস্টাইল ডেস্ক / ৫১ Time View
Update : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭)-এর নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো দেশকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। এমন ঘটনার পর শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ এবং অসহায়ত্ব আরও বেড়ে গেছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অপরিচিত নয় বরং পরিচিত মানুষ বা আশপাশের পরিবেশ থেকেই শিশুরা বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ফলে শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতর ও পরিচিত পরিবেশেও শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

শিশুদের নিরাপত্তায় পরিবারই প্রথম দায়িত্বশীল

শিশুর জীবনের প্রথম নিরাপত্তার জায়গা হলো পরিবার। বাবা-মা বা অভিভাবক যদি সচেতন না থাকেন, তাহলে শিশু অনেক সময় অজান্তেই বিপদের মুখে পড়ে যেতে পারে। তাই শিশুকে কোথায় যেতে দেওয়া হচ্ছে, কার সঙ্গে কথা বলছে, কোথায় খেলছে, এসব বিষয়ে সবসময় নজর রাখা জরুরি। তবে শুধু নজরদারি নয়, শিশুর সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা কোনো ভয় ছাড়াই তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারে।

শিশুদের একা বাইরে যেতে না দেওয়া

শিশুকে কখনোই একা কারো বাসায় যেতে দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে একা দোকানে পাঠানো বা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ছোট বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের স্বাধীনতা অনেক সময় বিপদের সুযোগ তৈরি করে।

সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত সতর্কতা

সন্ধ্যার পর শিশুদের একা বাইরে বের হতে দেওয়া উচিত নয়। দিনের আলো কমে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি পরিচিত পরিবেশেও সন্ধ্যার পর শিশুদের একা চলাফেরা করা থেকে বিরত রাখা ভালো।

পরিচিত মানুষ সম্পর্কেও সতর্ক থাকতে হবে

অনেক অভিভাবক মনে করেন, পরিচিত মানুষ মানেই নিরাপদ। কিন্তু অনেক সময় বিপদ পরিচিত মানুষের মাধ্যমেও আসে। তাই শিশুদের শেখাতে হবে, সবাইকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। শিশুকে বোঝাতে হবে যে কেউ চাচা, ভাই, পরিচিত বললেই সঙ্গে সঙ্গে তার সঙ্গে যাওয়া উচিত নয়। আগে অবশ্যই অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে।

গুড টাচ ও ব্যাড টাচ শেখানো জরুরি

শিশু নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গুড টাচ এবং ব্যাড টাচ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া। কোন ধরনের স্পর্শ ভালো এবং কোনটা খারাপ, এটা শিশুদের বয়স অনুযায়ী সহজভাবে বোঝাতে হবে। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে তারা যেন ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা বা অভিভাবককে জানায়, সেটাও শেখানো দরকার।

শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা

শিশু যদি অভিভাবকের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে পারে, তাহলে অনেক বিপদ আগেই এড়ানো সম্ভব। তাই তাদের সঙ্গে শুধু শাসন নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও গড়ে তুলতে হবে। শিশুর ছোট ছোট কথা, ভয়, অভিজ্ঞতা গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। এতে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করে এবং যেকোনো সমস্যা সহজে জানাতে পারে।শিশুর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং বিপদের সময় সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করে।

সমাজ ও আশপাশের ভূমিকা

শুধু পরিবার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষকেও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আশপাশে কোনো শিশু একা বিপদে পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া সবার দায়িত্ব।

রামিসার মতো মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, শিশু নিরাপত্তা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব। পরিবারকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে, কারণ একটি ছোট অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category