• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপের ভেন্যুতে বোতল নেওয়া নিষিদ্ধ, যে কারণে এমন সিদ্ধান্ত ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

তিন সপ্তাহ আগে ফিফার আনুষ্ঠানিক স্টেডিয়াম কোড অব কন্ডাক্টে বলা হয়েছিল, ‘সর্বোচ্চ ১ লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল স্টেডিয়ামে আনা যাবে।’ তবে ফিফা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে ভেন্যুতে আগত দর্শকদের আর পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, হাতে আসা ই-মেইল অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জানিয়েছে যে আচরণবিধি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং সেখানে বলা হয়েছে, ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল আর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর স্টেডিয়ামগুলোতে অনুমোদিত নয়।’ ছুড়ে মারলে আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে– এমন কারণ দেখিয়ে অন্যান্য যেকোনো বোতলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিষিদ্ধ করার ফিফার নতুন এই সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এর ফলে দর্শকরা খালি বোতল নিয়ে এসে স্টেডিয়ামের পানির ফোয়ারা বা ডিসপেনসার থেকে পানি ভর্তির সুযোগও পাবেন না। অথচ গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তখন ফিফার ভেন্যুগুলোতে বোতলজাত পানির দাম ছিল ৪ থেকে ৬ ডলার। এবার পানির মূল্য কত হবে তা এখনও অজানা। তবে কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কোকা-কোলার সঙ্গে ফিফার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব রয়েছে এবং তাদের পানি ব্র্যান্ড ‘দাসানি’ বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে বিক্রি করা হবে।

সর্বশেষ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে তাপপ্রবাহ ও দর্শকদের নিরাপত্তা ছিল অন্যতম আলোচিত বিষয়। মে মাসে প্রকাশিত ৫২ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন–এর বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, ১০৪ ম্যাচের মধ্যে প্রায় ২৬টি ম্যাচ এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যখন আয়োজক শহরগুলোর ওয়েট বাল্ব গ্লোবাল টেম্পারেচার (ডব্লিউবিজিটি) ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৮.৮° ফারেনহাইট) অতিক্রম করবে। এ ছাড়া ছয় সপ্তাহব্যাপী টুর্নামেন্টের পাঁচ ম্যাচ এমন পরিস্থিতিতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ডব্লিউবিজিটি ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮২.৪° ফারেনহাইট)-এরও বেশি।

ডব্লিউবিজিটি হলো তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি এবং সূর্যালোকের সমন্বয়ে নির্ধারিত তাপজনিত চাপের একটি সূচক। সামরিক বাহিনী, ক্রীড়া বিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধে এই সূচক ব্যবহার করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি, বোস্টন, মায়ামি, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো এবং নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির ভেন্যুগুলো বিশেষভাবে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

ফিফার বর্তমান নীতিতে শুধু দুটি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে– শিশুখাদ্য ও জীবাণুমুক্ত পানি বহন অথবা চিকিৎসাজনিত কারণে প্রয়োজনীয় তরল আনা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে ইংরেজি, ফরাসি বা স্প্যানিশ ভাষায় চিকিৎসা সনদ দেখাতে হবে। এ নিয়ে ফিফা দ্য অ্যাথলেটিককে বলছে, ‘খেলোয়াড় ও উপস্থিত দর্শকদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি প্রতিরোধের জন্য বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ভেন্যুর কয়েকটিতে আগেই বাইরের বোতল নিষিদ্ধ ছিল এবং ফিফা এখন তাদের টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামে একই নীতি প্রয়োগ করছে।’

ফিফার বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের জন্য তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ফিফা প্রতিটি আয়োজক শহরের কমিটি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে মিস্টিং স্টেশন, ফ্যান, পানি সরবরাহ কেন্দ্র, কুলিং টেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। স্টেডিয়ামের ভেতরে ২০২৬ বিশ্বকাপের বোতলজাত পানির মূল্য সংশ্লিষ্ট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অন্যান্য ইভেন্টের মূল্যমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category