শৌচাগারে থাকাকালীন অনেক সময় মনে হতে পারে যে ছিটকে আসা পানি নাপাক। তবে ইসলামী আইনবিদদের মতে, সুস্পষ্ট প্রমাণ বা নিশ্চিত হওয়া ছাড়া কোনো কিছুকে নাপাক মনে করা ঠিক নয়। এতে অহেতুক মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা শরিয়তের সহজ নীতির পরিপন্থী। যতক্ষণ না পানির রং বা গন্ধে নাপাকির চিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ তাকে পবিত্র মনে করতে হবে।
এ বিষয়ে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, পানি মূলত পবিত্র। যদি এতে নাপাকি মেশার কোনো স্পষ্ট আলামত দেখা না যায়, তবে অহেতুক অনুমান করে নিজেকে কষ্টে ফেলার প্রয়োজন নেই। মহান আল্লাহ আমাদের দ্বীনকে সহজ করেছেন। হজরত ওমর (রা.)-এর আমলেও এমন ঘটনার নজির আছে, যেখানে তিনি নাপাকির প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় অহেতুক প্রশ্ন করতে নিষেধ করেছেন।
ইবনে উসাইমিন (র.)-এর ব্যাখ্যা
একই প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট আলেম শায়খ ইবনে উসাইমিন (র.) বলেন, আমাদের শরিয়ত অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির অনুকূল। এর মূল নীতি হলো—যেকোনো বস্তু বা পোশাক যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে নাপাক হচ্ছে, ততক্ষণ তা পবিত্র। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধু সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ইবাদত ত্যাগ করা যাবে না, যতক্ষণ না অপবিত্র হওয়ার নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়।
অতএব, টয়লেটে ব্যবহারের সময় পোশাকে পানি লাগলে এবং তা নিশ্চিতভাবে নাপাক না হলে সেই পোশাক পবিত্র বলেই গণ্য হবে। ওই পোশাকে নামাজ আদায় করতে কোনো বাধা নেই। অযথা সংশয় বাদ দিয়ে স্বাভাবিক ইবাদত চালিয়ে যাওয়াই ইসলামের শিক্ষা।