কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দের ঘটনার পেছনে মিয়ানমার-ভিত্তিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সবুজ বার্তা এর অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের মংডু টাউনশিপকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের পরিকল্পনা করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (AA) এর সাথে যোগসাজশে এই চক্রটি কাজ করছে।
স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্রের বরাতে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত নুরুল আমিন ওরফে কালাফুত এবং মোহাম্মদ সাদেকসহ আরএসও (RSO) এর সদস্য হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ নূর দীর্ঘদিন ধরে এই পাচারের সাথে জড়িত।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদীর ক্যাশ্যার দ্বীপ ও ডুবাচর নামক দুর্গম চরে সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে অবস্থান করে বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশের পরিকল্পনা ও সমন্বয় করে থাকেন।
সীমান্তবর্তী হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দাবি, ওই চক্রের সদস্যদের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, আরএসও সদস্যরা নাফ নদীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের আশঙ্কা, এই চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না, যা বাংলাদেশের যুব সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।
তবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দের ঘটনায় বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানা ও বিজিবি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।