• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
Headline
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা সংকট গভীরতর, স্বীকৃত সনদের অভাবে অনিশ্চয়তায় লাখো শিশু সান্তাহারে কুড়িগ্রাম ট্রেনে লাইনচ্যুত ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন  ভালোবাসার টানে মাদারীপুর থেকে মাগুরায় খ্রিস্টান তরুণী, সমলিঙ্গে বিয়ের দাবিতে চাঞ্চল্য শ্রীপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ রাখা মামলায় দুই আসামী গ্রেপ্তার শ্রীপুরে ৩২৮ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যক্তির নামে মামলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চোরের উপদ্রব: অস্ত্রধারী আনসার নিয়োগে ফিরেছে স্বস্তি সান্তাহারে চলন্ত ট্রেনে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার শ্রীপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা সান্তাহারে চলন্ত ট্রেনে নারী যাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় রেলওয়ে থানা মামলা দায়ের সান্তাহার পৌর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা সংকট গভীরতর, স্বীকৃত সনদের অভাবে অনিশ্চয়তায় লাখো শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার / ১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিক্ষা সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিচালিত লার্নিং সেন্টার প্রকল্পগুলো চলমান থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কারিকুলাম এবং সার্টিফিকেট না থাকায়। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের লাখো রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে যে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। শিশুরা পড়াশোনা করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের হাতে কোনো গ্রহণযোগ্য সনদ থাকছে না, যা তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা বা মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের পর মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে ক্যাম্পে ঝরে পড়ার হার বাড়ছে এবং অনেক শিশু শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে একটি সময়োপযোগী ও মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব মোহাম্মদ আমিন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি উল্লাহ।

তাদের উদ্যোগে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক কারিকুলামের সঙ্গে মিয়ানমার-রোহিঙ্গা ভাষা ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষা মডেল প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। এই মডেলে —

১. আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত কারিকুলাম: যাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় গ্রহণযোগ্য সনদ পায়।
২. মাতৃভাষা ও নিজস্ব ভাষা সংরক্ষণ: মিয়ানমার কারিকুলাম ও রোহিঙ্গা ভাষা অন্তর্ভুক্তি, যাতে শিশুরা নিজেদের শেকড় ভুলে না যায়।
৩. নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা: মূল শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তারা জানান, “রোহিঙ্গা শিশুরা যেন শুধু লার্নিং সেন্টারে সময় কাটানো নয়, বরং সত্যিকারের ভবিষ্যৎ গড়ার মতো শিক্ষা পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। স্বীকৃত সনদ না থাকলে এই শিক্ষার কোনো মূল্য থাকে না। আমরা চাই তাদের শিক্ষা যেন প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারেও কাজে লাগে এবং একই সঙ্গে তারা একজন নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।”

ক্যাম্পে বসবাসরত অভিভাবক ও সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পেলে এই মডেল রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার অনিশ্চয়তা দূর করে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ দেখাতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category