• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

ভেনেজুয়েলায় আবারও বিমান হামলা, গ্যাং প্রধান নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১২ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত ট্রেন দে আরাগুয়া গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে গ্যাংয়ের প্রধান নিনো গেরেরো নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি করেছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, আমার নির্দেশে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) নিনো গেরেরোকে হত্যা করতে প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান চালিয়েছে।

নিনো গেরেরোর পুরো নাম হেক্টর রুথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন দে আরাগুয়ার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এটি ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী চক্র হিসেবে পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুখ্যাত এ গ্যাংয়ের অপ্রথাগত যুদ্ধ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এটিকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমপর্যায়ের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প নিজের পোস্টে একটি ভিডিও যুক্ত করেছেন। এতে একটি সবুজ ভবন ও পাশের টিনশেড ধ্বংস হতে দেখা গেছে। পোস্টে তিনি বলেন, এই সামরিক অভিযানটি ভেনেজুয়েলায় আমাদের বন্ধুদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে খুব ভালোভাবে কাজ করছি।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরোর বিরুদ্ধে এই গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগসাজশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ট্রেন দে আরাগুয়া মূলত একটি জেলখানা-ভিত্তিক গ্যাং ছিল। এটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যান গেরেরো। তাকে গ্রেফতারের যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

গেরেরোর নেতৃত্বে গ্যাংটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং চিলিতে বিস্তার লাভ করে। গোষ্ঠীটি অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, যৌন পাচার, ভাড়ায় খুন এবং অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। গেরেরো দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। ২০১২ সালে তিনি এক কারারক্ষীকে ঘুষ দিয়ে জেল থেকে পালিয়ে যান। এরপর ২০১৩ সালে আবারও ধরা পড়েন।

ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের ‘তোকোরন কারাগারকে তিনি একটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করেন। কারাগারটিতে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিং পুলের মতো সুযোগ-সুবিধা ছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাদুরো ১১ হাজার সেনা পাঠিয়ে জেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গেরেরো আবার পালিয়ে যান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, বলিভার রাজ্যের স্বর্ণখনি, ক্যারিবীয় উপকূলের মাদক রুট এবং ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়া সীমান্তের গোপন পারাপার গেরেরোর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই গ্যাংটির বর্তমানে যু্ক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত আট দেশে আধিপত্য রয়েছে।

মার্কিন বাহিনী মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন নৌযানে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌযান ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, গত সেপ্টেম্বর থেকে এ ধরনের হামলায় ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের প্রমাণ দেয়নি। এতে অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category