• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
Headline

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, দুই নেতা বহিষ্কার

Reporter Name / ৯ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে তার সাংগঠনিক পদ এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এছাড়া, একই ঘটনায় পৃথক আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানের নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মীর হামিদুরের কক্ষে যান ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মো. মুয়াজ। সেখানে মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয় এবং হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।

পরে রাত ৯টার দিকে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে মুয়াজ তাকে স্টিলের পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারে তার গ্রুপের সদস্যরা এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নাফিউল ইসলাম (বিডিএস-১৪ ব্যাচ) নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। আহত মুয়াজ ও হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুয়াজকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, আর হামিদুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উভয়ের মাথায় আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুয়াজ তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং হামিদুর নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।

ঘটনার পর শনিবার সকালে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বাগমারা ছাত্রাবাসসহ ক্যাম্পাসের হলগুলো খালি করা হয়।

এদিকে, কলেজ কর্তৃপক্ষও পৃথকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা ফার্মাকোলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category