দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও নদী অববাহিকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযানের নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ঠেকাতে এ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নে নিয়োজিত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জোরালো টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৭১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এসময় আনুমানিক ৫১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪২ হাজার ৭১০ টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ ৯টি জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতার জাল এবং বাধা জালসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি বেহুন্দি জাল, টং জাল ও চায়না রিংসহ মোট ৮৮২টি নিষিদ্ধ জাল এবং ৩৭ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলেদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে মাছ আহরণ, মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।