• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ Time View
Update : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

জিন্স বা ডেনিম পোশাক রপ্তানির যাত্রা শুরুর প্রায় চার দশক পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। কয়েক বছর আগে অর্জিত এই অবস্থান প্রতি বছরই আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বড় বাজারে বাংলাদেশ প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ৯৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। দেশটির বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। এখানেও বাংলাদেশ শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়ার মতো দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকো দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে, আর ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান উভয়ই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের পর পাকিস্তান ১০৩ কোটি ডলারের ডেনিম রপ্তানি করেছে। পাশাপাশি তুরস্ক, তিউনিসিয়া ও চীনও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত দেড় দশকে ডেনিম শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। আগে যেখানে দেশে মাত্র ১০-১২টি ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিল ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০টিতে পৌঁছেছে। এখন দেশীয় মিলগুলোই মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করছে, যা আগে আমদানিনির্ভর ছিল।

উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। গ্যাস ও পানির মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। এছাড়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরেও বাংলাদেশে আসছে, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীর আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও ওয়াশিং সুবিধা বাড়ার ফলে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category