• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা, মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ Time View
Update : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে (১৪) শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পর ছাত্রীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ভিডিও দেখে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পলাতক। এ ঘটনার জেরে ছাত্রী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে রয়েছে।

থানায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ছাত্রী পেটের ব্যথায় ভুগছিল। বিষয়টি তার দাদিকে জানানোর পর গত ৫ ফেব্রুয়ারি দাদি তাকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল খায়েরের কাছে নিয়ে যান। ওই শিক্ষক কবিরাজি চিকিৎসা করেন। শিক্ষক কৌশলে ছাত্রীর দাদিকে বাইরে পাঠিয়ে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় ব্যক্তিরা মীমাংসার আশ্বাস দিলে ওই ছাত্রীর পরিবার মামলা করতে দেরি করে। কিন্তু শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ১৫ এপ্রিল পরিবারটি থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ওই শিক্ষক মামলা না করার জন্য নানাভাবে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করায় একই মাদ্রাসার একদল ছাত্রসহ ও শিক্ষকের পক্ষের লোকজন গত শনিবার সকালে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করেন। এরপর ওই দিন দুপুরের দিকে তাঁদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় তাঁদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ছাত্রীর অভিযোগ, সে ছাড়াও একই মাদ্রাসার আরও একাধিক ছাত্রীকে ওই প্রধান শিক্ষক তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আবুল খায়ের আত্মগোপনে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করেও বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একাধিক পক্ষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়নি। সর্বশেষ শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ছাত্রীর বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করেন। বিষয়টি এখন পুলিশ দেখছে।

ঘটনার বিষয়ে চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুই মাসের বেশি সময় আগে ৫ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে শিক্ষক আবুল খায়ের শ্লীলতাহানি করেন। ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি থানায় না জানিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করে। সেখানে মীমাংসা না হওয়ায় ১৫ এপ্রিল রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরদিন অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। আত্মগোপনে থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি লুৎফুর রহমান জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনায় শিক্ষকের পক্ষ হয়ে একই মাদ্রাসার ছাত্র ও এলাকার কিছু লোকজন ছাত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন। শনিবার রাতে ছাত্রীর মা এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category