• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

তেলের দাম বাড়লেও কাটেনি ভোগান্তি, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন

Reporter Name / ৫ Time View
Update : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর জ্বালানি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অনেক পাম্পে তেল বিক্রির ওপর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় বাড়তি দাম দিয়েও কাটছে না ভোগান্তি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহের জন্য বাইকারদের দীর্ঘ সারি।

সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরিবর্তে অনেক পাম্প এখনো তেল বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা বজায় রেখেছে। অর্থাৎ, বাড়তি দাম দিয়েও গ্রাহক তার চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।

মহাখালীর ক্লিন ফুয়েল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বাইকারদের লাইন মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এত ভিড়ের মধ্যেও স্টেশন কর্তৃপক্ষ ৬০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। অথচ দাম বাড়ার আগে এই ৬০০ টাকায় যেখানে ৫ লিটার তেল পাওয়া যেত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.২ লিটারে। বাড়তি টাকা খরচ করেও পর্যাপ্ত তেল না পাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান অরাজকতা রোধে সাধারণ গ্রাহকদের একটি বড় অংশই অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তাদের ধারণা ছিল, মূল্যবৃদ্ধির পর পাম্পগুলোতে মজুত করা তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেলের দাম বাড়লেও মাঠপর্যায়ের ভোগান্তি কমেনি, বরং ঢাকার অধিকাংশ ফুয়েল স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের লাইন কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।

অপেক্ষমাণ এক বাইকার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টা থেকে লাইনে অপেক্ষা করছি, তেল দেওয়া শুরু করেছে ১১টায়, কখন পাব জানি না।

আরেক বাইকার বিল্লাল হোসেন বলেন, তেলের দাম বাড়ালো, সেই টাকাটা আমাদের পকেট থেকেই যাবে। অথচ বাড়তি দাম দিয়েও ভোগান্তি কাটছে না।

অন্যান্য দিনের মতো আজও ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছুঁইছুঁই। ফুয়েল পাস থাকলে ১,২০০ এবং পাস না থাকলে ১,০০০ টাকার তেল দিচ্ছে স্টেশনটি।

তেল নিতে আসা বাইকার আসাদুজ্জামান বলেন, সকাল সকাল তেল নিতে এসেছি, কিন্তু কখন পাব জানি না। দাম বাড়িয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু তেলটা পেতে যেন ভোগান্তি কম হয়, এটাই চাই।

আরেক বাইকার মো. শরীফ বলেন, ভেবেছিলাম মূল্যবৃদ্ধির পর তেলের সরবরাহ বাড়বে, ভোগান্তি কিছুটা কমবে। কিন্তু তেমন কিছু হলো না। সেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে যেতে হচ্ছে।

উল্লেখ, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অকটেনের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরোসিনের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category