• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

৭ দিনেও খোঁজ মেলেনি এসআইয়ের, বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর অপেক্ষা

জেলা প্রতিনিধি / ১ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

রাজধানীর কলাবাগান থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান সরকার (৩২) ৭ দিন ধরে নিখোঁজ। তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। বাড়িতে স্বামীর অপেক্ষায় বসে আছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী।

ভাইকে ফিরে পেতে আবেগপ্লুত হয়ে কান্নায় বোনের আহাজারি। অসুস্থ পিতার কাছে লুকানো হচ্ছে নিখোঁজের ঘটনা। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও মেলেনি সন্ধান।

রোববার (৩ মে) বিকালে শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপটা গ্রামে নিখোঁজ এসআই রাকিবুল হাসান সরকারের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সামিয়ার (২১) সঙ্গে।

তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারির ২ তারিখে পারিবারিকভাবে  বিয়ে হয় এসআই রাকিবুল হাসানের সঙ্গে। তার পিতার বাড়ি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের নান্দিয়া সাগুন গ্রামে। তার পিতার নাম শাহাব উদ্দিন।

স্ত্রী সামিয়া জানান, কিশোরগঞ্জের পিবিআই থেকে পোস্টিং হয়ে গত ২৪ মার্চ ঢাকার কলাবাগান থানায় যোগদান করেন তার স্বামী রাকিবুল হাসান। নতুন স্টেশনে যোগদানের পর ব্যস্ত থাকায় এক দিনও বাড়িতে যাননি তিনি। শেষ কথা হয় গত ২৭ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে।

এ সময় রাকিবুল হাসান তার স্ত্রীর কাছে অসুস্থ বাবার জন্য দোয়া চান নিজের প্রতি খেয়াল রাখতে বলেন।

ওই দিনই বিকাল ৩টার সময় সামিয়া তার স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেন। দীর্ঘ সময় মেসেজের কোনো রিপ্লে না পেয়ে রাত ১০টার সময় ফোন দিয়ে রাকিবুল হাসানের নাম্বার বন্ধ পান।

ওই রাত সাড়ে ১১টায় কলাবাগান থানা হতে রাকিবুল হাসানের পিতার নাম্বারে ফোন দিয়ে জানান যে, রাজিবুল হাসান ডিউটিতে যাননি, তিনি বাড়িতে গিয়েছেন কিনা। এরপর থেকেই রাকিবুল হাসানের নিখোঁজের খবরটি প্রকাশ পায়।

৪ ভাইবোনের মধ্যে রাকিবুল হাসান দ্বিতীয়। বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি থাকেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া স্বামীর বাড়িতে। তার ছোট ভাই সাদমান আল সাকিব ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে লেখাপড়া করেন। ছোট বোন মারিয়া (১৩) স্থানীয় কাওরাইদ বাজারে কওমি মাদ্রাসার আবাসিক থেকে লেখাপড়া করেন।

নিখোঁজ রাকিবুল হাসানের বড় বোন আফরোজা সরকার মেরি বলেন, ২০২২ সালে এসআই পদে চাকরিতে যোগ দেন তার ভাই। গত প্রায় দেড় বছর কর্মরত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পিবিআইয়ে। সেখান থেকে ঢাকা কলাবাগান থানায় যোগ দিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

আফরোজা সরকার মেরি জানান, বড় বোন হিসেবে তিনি নিখোঁজ ভাইয়ের কর্মস্থল কলাবাগান থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এছাড়াও সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভাইয়ের সন্ধান মেলেনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ভাই এবং ভাবির সঙ্গে মধুর সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো ধরনের বিভক্তি বা ভুল বোঝাবুঝি নেই।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মেরি বলেন, আমার ভাইকে নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। একটি খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার ভাই এর আগেও পালিয়েছে। আমার ভাই শান্ত স্বভাবের মানুষ। এর আগে কখনো পালাইনি। অপর একটি নিউজে আমার ভাই বুথ থেকে টাকা তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কলাবাগান থানার ওসি জানিয়েছেন- এ রকম খবরের কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি কান্না করে বলেন, কোনো বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আমার ভাইকে পাওয়ার জন্য আপনারা প্রকৃত নিউজ করুন। এ সময় তার ভাইকে খুঁজে পেতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category