রাজধানীর শ্যামপুরে বিএনপির এক নেতাকে গুলি করে হত্যার ২২ বছর পর এ সংক্রান্ত মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সালে নাঈম শিকদার বিন্দু নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রোববার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হলেন- শামীম হোসেন শিকদার, শহিদুল ইসলাম ওরফে ঠোঁটকাটা রিপন, শহীদ ওরফে ড্রাইভার শহীদ, শহিদ হোসেন ওরফে সেঞ্চু, দুলাল ওরফে কালা দুলাল (জাকির হোসেন নামেও পরিচিত) এবং আমিনুল ইসলাম।
তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার আসামি ‘ড্রাইভার শহীদ’ বিচার চলাকালেই মারা গেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় আমিনুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাঈম শিকদারের সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে সংঘাতে রূপ নেয়। ঘটনার আগে তাকে একাধিকবার হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
২০০৪ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় শ্যামপুরের কলিমুল্লাহ বাগ এলাকার এক সেলুনের সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হামলাকারীরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন, পরে মারা যান।
ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন কদমতলী থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে ডিবি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে তাতে আপত্তি জানানো হলে তদন্তের দায়িত্ব যায় সিআইডির কাছে।
সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
আদালতে একমাত্র গ্রেফতার আসামি আমিনুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ছয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।