• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন

সোশ্যাল মিডিয়া জালিয়াতিতে ১ বিলিয়ন ডলার উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট / ২ Time View
Update : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৫ সালে সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক প্রতারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারণার অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় সামাজিক মাধ্যম থেকেই সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

গত বছর যারা প্রতারণার শিকার হয়ে অর্থ হারানোর অভিযোগ করেছেন তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রতারণার সূত্রপাত হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে ফেসবুক থেকে শুরু হওয়া প্রতারণায়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম।

শুধু ফেসবুক থেকেই হওয়া প্রতারণায় মানুষের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ টেক্সট মেসেজ বা ইমেইলভিত্তিক প্রতারণার তুলনায় অনেক বেশি। অর্থাৎ, প্রতারকেরা এখন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে সামাজিক মাধ্যমকে বেশি ব্যবহার করছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতারণার ধরনও নানা রকম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে অনলাইন শপিং সংক্রান্ত প্রতারণা। যারা ক্ষতির কথা জানিয়েছেন, তাদের ৪০ শতাংশের বেশি বলেছেন তারা সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করেছিলেন। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল পোশাক, প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি পোষা প্রাণীও। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা অপরিচিত ওয়েবসাইটে গিয়েছেন। আবার কখনো পরিচিত ব্র্যান্ডের নামে ভুয়া ওয়েবসাইটে বড় ছাড়ের প্রলোভন দেখানো হয়েছে।

বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। এসব ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা পোস্টের মাধ্যমে সহজে বিনিয়োগ শেখানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে প্রতারকেরা নিজেকে পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দেয় বা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া প্রশংসাসূচক মন্তব্যে ভরা গ্রুপ তৈরি করে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। এ ধরনের প্রতারণায় ২০২৫ সালে মোট ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

রোমান্স বা প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদেও প্রতারণা বাড়ছে। যারা এ ধরনের প্রতারণায় অর্থ হারিয়েছেন, তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন এই যোগাযোগও শুরু হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। প্রতারকেরা প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে কোনো জরুরি পরিস্থিতির গল্প বানিয়ে অর্থ দাবি করে। কখনো আবার বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়ে ভুয়া প্ল্যাটফর্মে অর্থ পাঠাতে প্রলুব্ধ করে।

এফটিসি ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য কে দেখতে পারবে, তা সীমিত রাখা উচিত। অনলাইনে পরিচিত কারও পরামর্শে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো পণ্য কেনার আগে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং নামের সঙ্গে ‘স্ক্যাম’ বা ‘অভিযোগ’ শব্দ যুক্ত করে অনুসন্ধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার প্রতারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ফলে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category