চোখের নিচের কালো দাগ বা ডার্ক সার্কেল এখন একটি খুব সাধারণ সমস্যা। ব্যস্ত জীবনযাপন, কম ঘুম, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পেরিওরবিটাল হাইপারপিগমেন্টেশন (পিওএইচ)। এই সমস্যার কারণে চোখের নিচের ত্বক গাঢ় বাদামি বা কালচে দেখায়, ফলে মুখ ক্লান্ত ও অসুস্থ মনে হয়।
ডার্ক সার্কেল হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বংশগত কারণ। যদি পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকে, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মেও এটি দেখা দিতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং রক্ত সঞ্চালন কমে, যার ফলে চোখের নিচে কালোভাব তৈরি হয়।
ঘুমের অভাব ডার্ক সার্কেলের সবচেয়ে বড় কারণ। নিয়মিত কম ঘুম, রাত জাগা বা অনিয়মিত জীবনযাপন চোখের নিচের ত্বককে ফ্যাকাশে করে তোলে। এতে রক্তনালি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং কালো দাগ আরও গাঢ় দেখায়। এছাড়া মানসিক চাপ, ক্লান্তি এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির সামনে দীর্ঘ সময় কাটালে চোখে চাপ পড়ে এবং ডার্ক সার্কেল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অ্যালার্জি বা চোখের শুষ্কতাও আরেকটি বড় কারণ। অ্যালার্জির কারণে চোখ চুলকায়, ফুলে যায় এবং রক্তনালি প্রসারিত হয়, ফলে চোখের নিচে গাঢ় ছায়া দেখা যায়।
ডার্ক সার্কেল কমাতে প্রথমে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং চোখের নিচে কালো দাগ আরও স্পষ্ট হয়।
রাতে দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক চাপ কমানোও জরুরি। নিয়মিত বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর ও ত্বক দুটোই ভালো থাকে।
স্ক্রিন টাইম কমানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমানোর অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। অন্ধকারে স্ক্রিন দেখা চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে, যা ডার্ক সার্কেল বাড়ায়।
ঠান্ডা থেরাপিও বেশ কার্যকর। ঠান্ডা টি ব্যাগ, বরফ বা ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় চোখের উপর কিছুক্ষণ রাখলে রক্তনালি সংকুচিত হয় এবং ফোলাভাব কমে যায়।
মাথা একটু উঁচু করে ঘুমালে চোখের নিচে রক্ত জমা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এজন্য অতিরিক্ত একটি বালিশ ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত চোখের যত্ন নেওয়া এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ডার্ক সার্কেল কমাতে সাহায্য করে।