• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধ: কনডমের দাম বাড়ানোর পথে বিশ্বের শীর্ষ প্রস্তুতকারক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কনডম বানানো কোম্পানি কারেক্সের প্রধান বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের পণ্য বানাতে ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে, যা অব্যাহত থাকলে তাদের কোম্পানি কনডমের দাম ৩০% পর্যন্ত বা তারও বেশি বাড়াবে।

মধ্যপ্রাচ্যে সর্বশেষ এ সংঘাত শুরু হওয়ার পর কনডম বানানোর খরচও অনেক বেড়ে গেছে, কারেক্সের প্রধান নির্বাহী গো মিয়া কিয়াত সংবাদ মাধ্যমগুলোকে এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মালয়েশিয়াভিত্তিক এ কোম্পানি বছরে ৫০০ কোটির বেশি কনডম বানায় এবং তারা ডিউরেক্স ও ট্রোজানের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের কাছে পণ্য সরবরাহ করে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের মতো অনেক দেশের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও তাদের কাছ থেকে কনডম নেয়।

রয়টার্স ও ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গো তাদের কনডমের দাম বাড়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বিবিসি এ প্রসঙ্গে কোম্পানিটির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে শুরু করে।

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। তাদের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করা নৌযানের ওপর হামলার হুমকিও দেওয়া আছে তাদের।

৪০ দিনের ওই যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়; যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হওয়ার পর তেহরান হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখায় কিছুক্ষণ পরই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল-গ্যাস সরবরাহের পথটিতে ফের বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

হরমুজ বন্ধ থাকায় তেল-গ্যাসের পাশাপাশি নানা ধরনের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য সরবরাহেও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়া ও সিলিকনভিত্তিক লুব্রিকেন্টসহ নানান তেলজাত উপকরণের ওপর কারেক্স নির্ভরশীল।

চলতি বছর কনডমের চাহিদাও প্রায় ৩০% বেড়েছে, পরিবহনের বাড়তি খরচ এবং নৌযান পৌঁছাতে বিলম্ব এ ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে, বলছেন গো।

“খারাপ সময়ে কনডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়, কারণ আপনি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে, আগামী বছর আপনার চাকরি থাকবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চিত।

“আপনি যদি এখন একটি বাচ্চা নেন, তাহলে আরেকটি মুখে খাবার তুলে দিতে হবে,” ব্লুমবার্গকে এমনটাই বলেছেন তিনি।

কনডমের এই মূল্যবৃদ্ধিই দেখাচ্ছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে কেবল জ্বালানি বাজারই যে অস্থির তা নয়, অন্যান্য পণ্য কিনতেও বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের এখন বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে বিমানভাড়াও বেড়ে গেছে। সবচেয়ে সস্তা ইকোনমি টিকেটের দামও এক বছর আগের তুলনায় এখন গড়ে ২৪% বেড়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে।

উপসাগরে নৌচলাচলে ব্যাঘাত ঘটায় সারের দামও বাড়ছে। ঘাটতি বেড়েছে হিলিয়ামেরও, যা কম্পিউটার চিপস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

কাঁচামাল পেতে হিমশিম খাওয়ায় বোতলজাত পানির শিল্পকেও ইরান যুদ্ধ ভয়াবহ চাপে ফেলেছে।

পরিবহনের খরচ বাড়ায় চিনি, দুগ্ধজাত পণ্য ও ফলের দামও বাড়বে বলে এ মাসের শুরুতেই জাতিসংঘ সতর্ক করেছিল।

এসবের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আলোচনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন। তাতেও যে হরমুজ পুরোপুরি খুলবে এবং পণ্য পরিবহন সহসা স্বাভাবিক হবে তার লক্ষণ মিলছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category