ইসলামী ক্যালেন্ডার বা হিজরি বর্ষের একাদশ মাস হলো জিলকদ। ইসলামে যে চারটি মাসকে অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত ঘোষণা করা হয়েছে, জিলকদ তার মধ্যে অন্যতম। এই পবিত্র মাসগুলোতে ইসলামী শরিয়তে যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি মাস শুরু হয়। যেহেতু চন্দ্র বছর সৌরবছরের চেয়ে ১০ থেকে ১১ দিন কম হয়, তাই প্রতি বছরই জিলকদ মাস ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এগিয়ে আসে। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই মাসটি মূলত পবিত্র হজের প্রস্তুতির মাস হিসেবে পরিচিত।
ইসলামী ইতিহাসের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এই মাসেই সংঘটিত হয়েছে। নিচে এর তালিকা দেওয়া হলো:
পবিত্রতা ও গুরুত্ব
সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসলামে যে চারটি মাসকে সবচেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো মহররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ। জিলকদ মাসের গুরুত্ব এর ইতিহাস থেকেই স্পষ্ট। কুরাইশদের সাথে মুসলমানদের ১০ বছর মেয়াদি শান্তি চুক্তি বা হুদাইবিয়ার সন্ধি এই মাসেই হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ইসলাম প্রসারে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ এই মাসেই উম্মতে মুহাম্মদির ওপর ফরজ করা হয়। বিদায় হজের সময় ঘোষণা করা হয় যে, শারীরিকভাবে সক্ষম ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা বাধ্যতামূলক।
ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও আমল
পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২১৭ নম্বর আয়াতে নির্দিষ্ট চারটি পবিত্র মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। জিলকদ মাস যেহেতু হজের মাস জিলহজের ঠিক আগের মাস, তাই এই সময়টা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। একে সন্ধির মাস বা সব লড়াই থামানোর মাসও বলা হয়।
এই মাসের পবিত্রতা বজায় রাখতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। অন্যান্য মাসের মতো এই মাসেও নফল রোজা রাখা, বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত এবং জিকির-আজকারে সময় কাটানো যেতে পারে। জিলকদ মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের রোজা রাখারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
মূলত হজের সফরের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতেই মহান আল্লাহ এই মাসটিকে সম্মানিত করেছেন। একজন মুমিন মুসলমানের জন্য এই মাসটি হলো আত্মশুদ্ধি এবং পরবর্তী মাসের বড় ইবাদত হজের জন্য নিজেকে তৈরি করার উপযুক্ত সময়।