যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছে তেহরান।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের অনুরোধে যুদ্ধবিরতি ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়িয়েছেন তিনি।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধিভুক্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বিভিন্ন উৎস থেকে আসা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ জানায়নি আর ট্রাম্পের অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি অর্থ থাকতে পারে আর সেগুলো হল:
১. ট্রাম্প যুদ্ধে হেরে গেছেন। যুদ্ধ চলাকালে তিনি সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতি পরীক্ষা ও প্রয়োগ করে দেখেছিলেন। ট্রাম্প জেনে গেছেন, যুদ্ধ দিয়ে তিনি আর কিছু অর্জন করতে পারবেন না, তাই তিনি যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসাকেই নিজের জন্য সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো উপায় বলে বিবেচনা করছেন।
২. যদিও এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অর্জন নেই, তারপরও ট্রাম্প সম্ভাব্য সব উপায়ে প্রতারণাসহ সবকিছু করতে পারেন যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোও অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর দাবি করার সময়কালেই মার্কিন প্রশাসন অথবা তাদের আঞ্চলিক ‘পাগলা কুকুর’ (ইসরায়েল) আক্রমণ চালাতে পারে।
তাসনিম জানিয়েছে, তাদের সংগ্রহ করা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানি কর্মকর্তারা এ ধরনের সম্ভাব্যতা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন আর ইরান এ ধরনের সম্ভাবনাকে অবমূল্যায়ন করছে না।
৩. আরেকটি সম্ভাবনা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে যাবে আর লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাত তুলে ইসরায়েল যুদ্ধে থেকে যাবে। তবে ইরান আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে যে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ইসরায়েলকে যুদ্ধে রেখে একতরফাভাবে সরে গেলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থে হামলা অব্যাহত থাকবে।
৪. নৌ-অবরোধ বজায় রাখার অর্থ শত্রুতা অব্যাহত রাখা। নৌ-অবরোধ বজায় থাকা পর্যন্ত ইরানও হরমুজ প্রণালি খুলবে না আর প্রয়োজন মনে করলে শক্তি প্রয়োগ করে অবরোধ ভাঙবে।
৫. যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে আর ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে থামিয়ে রাখতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাস, ইরানের পরিস্থিতি গত জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পরের পরিস্থিতির মতোই আছে।
কিন্তু তাসনিম বলছে, ১২ দিনের যুদ্ধের পরের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি মৌলিক তফাৎ আছে আর সেটি হচ্ছে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায় তাহলে হরমুজ প্রণালিও পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।