• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন ও ভ্রূণহত্যার অভিযোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ-জেইউ) সহকারী অধ্যাপক এস এম এ মওদুদ আহমেদের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতন, ভ্রূণহত্যা, পরকীয়া ও বেআইনি বিবাহের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মওদুদ আহমেদের প্রথম স্ত্রী নূরজাহান (জেরিন) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর মওদুদ আহমেদের সঙ্গে নূরজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে তাকে ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। নূরজাহান দাবি করেন, ২০২২ সালে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হলে পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এ সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট ও ওসিস (OCC) থেকে প্রাপ্ত ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স’-এর প্রমাণপত্র তিনি অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করেছেন।

নূরজাহানের দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে মওদুদ আহমেদ তার এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে বেআইনিভাবে বিয়ে করেন। এরপর নূরজাহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার থেকে বের করে দিয়ে সাভার পুলিশ টাউনে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে শুরু করেন ওই শিক্ষক। এমনকি গত ১২ এপ্রিল নূরজাহানকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে বাসা ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে তার ব্যক্তিগত ফোন হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। এমনকি ঈদের দিনও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে টেনে-হিঁচড়ে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মওদুদ আহমেদ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত বাসায় (ডি-৭৯) না থাকলেও ওই বাসা তার নামে বরাদ্দ রয়েছে। এ অবস্থায় নিজেকে অসহায় দাবি করে ওই বাসায় বসবাসের অনুমতি চেয়ে, তার ওপর হওয়া বর্বরতা ও নির্মমতার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাতে প্রশাসনিক সহায়তা কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নূরজাহান বলেন, আমি একজন নিরপরাধ ভুক্তভোগী নারী। আমার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তার স্বাক্ষী রয়েছেন আমার আশেপাশের প্রতিবেশীরা। আমার ওপর আমার স্বামীর এমন অন্যায়, প্রতারণা ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের বিচার প্রার্থনা করছি। বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়েও তিনি যে নৈতিক স্খলন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন তার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি, যেন তিনি বা অন্য কেউ অন্য কোনো নারীর সঙ্গে এমন অন্যায় করার সাহস না পায়।

অভিযোগের বিষয়ে মওদুদ আহমেদের সঙ্গে একাধিকভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, অভিযোগপত্রের নথি আমরা সংগ্রহ করেছি। আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category