যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় ব্রেকথ্রু আসতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সরকারি সূত্র শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন, আজ রাতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাজধানী ইসলামাবাদে এসে পৌঁছাতে পারেন।
এরআগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আরাগচি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, পাক সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন আব্বাস আরাগচি।
এর আগে এ সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে অবতরণ করে মার্কিনিদের অন্তত ৯টি বিমান। এসব বিমানে করে আনা হয়েছে যোগাযোগের যন্ত্রাংশ, বুলেটপ্রুফ গাড়ি, নিরাপত্তাকর্মী এবং কিছু টেকনিক্যাল সদস্য।
গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইরানি প্রতিনিধিরা এতে যোগ দিতে অসম্মতি জানালে, নির্ধারিত সময়ে আর আলোচনা হয়নি।
ইরান শর্ত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে আগে নৌ-অবরোধ তুলতে হবে। এরপর তারা তাদের প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদে পাঠাবে।
গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠকে বসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তারা।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ গত ২২ এপ্রিল শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এরপর অনির্দিষ্টকালের জন্য এটির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি হুমকি দেন, ইরান যদি তাদের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি না করে তাহলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। সূত্র: আলজাজিরা