প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, আপনার পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম এই বাংলাদেশে গণভোটের প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু আজকে আপনারা সেই গণভোটের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। আপনারা শুধু গণভোটের বিরুদ্ধাচরণই করছেন না, বরং বিএনপির জন্ম যে গণভোটের মাধ্যমে হয়েছে, সেই প্রক্রিয়াকেও আপনারা অস্বীকার করছেন। এভাবে নিজেদের জন্মকেই অস্বীকার করার শামিল হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে’ আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার তার বক্তব্যে, কথায় এবং দাবিতে যেই সংবিধানকে পরিবর্তন বা প্রত্যাখ্যান করার কথা বলেছেন, আজকে দেখা যাচ্ছে সেই সংবিধানকে ঘিরেই বিএনপি নিজের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সুতরাং যে বিএনপি তার প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বীকার করে না এবং বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যও যথাযথভাবে অনুসরণ করে না, সেই বিএনপি মূলত একটি তলাবিহীন ঝুড়ি।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, যদি বিএনপি বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাহলে আপনাদেরকেও আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই- আমরা নতুনভাবে এমন রাজনীতি শুরু করব, যে রাজনীতি হবে জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও রাজনৈতিক ধারার ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, আমরা পর্দার আড়ালের কোনো শাসন দেখতে চাই না। আমরা জনগণ যাদের ক্ষমতায় বসিয়েছি, যাদের প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছি, তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাই। আমরা জানতে চাই, এই প্রধানমন্ত্রী কি প্রক্সি প্রধানমন্ত্রী হবেন, নাকি জনগণের প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি কি জনগণের কথা বলবেন, নাকি তাকে নির্ধারিত করে দেওয়া বক্তব্যই বারবার বলতে হবে?
তিনি আরও বলেন, যদি এই রাষ্ট্রে গণভোটের রায় মানা না হয়, সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা না হয় এবং জুলাই মাসের ঘটনাকে অস্বীকার করা হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রে যারা বর্তমানে ক্ষমতাসীন আছেন, তাদেরকে আরেকটি ৩৬ জুলাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, শহিদ উসমান হাদি এসব কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতেন। আমাদের ধারণা, নির্বাচনের পর আপনারা যেই ধরনের আচরণ করছেন, তা আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। নতুবা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনগণের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং তৃণমূল বিএনপির পক্ষে ‘না’ বলার বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত বলেই প্রতীয়মান হয়। যার কারণে শহিদ উসমান হাদিকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবশেষে তিনি শহিদ উসমান হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।