ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে এলপিজি আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসেই দ্বিতীয় দফায় এলপি গ্যাসের দাম বাড়াল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
রোববার (১৯ এপ্রিল) ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসির এই নতুন মূল্য আজ সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হবে।
তবে সরকারিভাবে দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার আগেই রাজধানীর বাজারে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকার আশেপাশে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নতুন দর কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম ২ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এর আগে মাসের শুরুতে এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিইআরসি প্রতিবার মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিগুলো খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে নির্দিষ্ট হার (রেট) প্রদান করে। ব্যবসায়ীরা সেই দরের সাথে আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি করেন।
আইডিয়াল এলপিজির স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, বর্তমানে বাজারে ১২ কেজির এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, কেউ হয়তো ২১০০ টাকায়ও বিক্রি করে থাকেন। যেহেতু আজ নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে সামনে দাম আরেকটু বাড়বে। কারণ কোম্পানির রেটের সাথে আমাদের গাড়িভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ যোগ করতে হয়।
তবে বাজারে এলপিজির সরবরাহ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি। মো. ইউসুফ বলেন, বসুন্ধরা, ফ্রেশ, ওমেরা ও সানসহ সব কোম্পানিই বাজারে সরবরাহ দিচ্ছে, তাই জোগান নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এক মাসে দুইবার মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এলপিজির জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়া, বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানিতে সময় ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে বিমা ও নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এলপিজি ক্রয়ে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম চার্জ অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ মার্কিন ডলার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কারণে সার্বিকভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।