• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ অপরাহ্ন
Headline
কালশী কবরস্থান এলাকায় ১২০ জন অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করলো ওয়েলনেস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই’-এর নতুন কমিটি গঠন হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে উত্তাল ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা মাদকবিরোধী অভিযানে র‍্যাবকে ঘিরে হামলা, আহত ৫ দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চিংড়ি সংরক্ষণের সঠিক উপায় সড়ক দুর্ঘটনায় ভয়াবহ এপ্রিল, নিহত ৫১০ আদমদীঘি উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩ ভবনে চলে দাপ্তরিক কাজ; নেই প্রধান ৬ কর্মকর্তা   বিসিবি নির্বাচনের জন্য ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন

হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

তিনি বলেন, যাতে বুকের ধন হারানো পরিবারগুলো মনে করে তারা একা নয়, রাষ্ট্র পাশে রয়েছে। প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে; এ দায় থেকে আমরা কেউ মুক্ত নই।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, হাম নিয়ে বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। এই সংকটকে রাজনৈতিক দোষারোপের হাতিয়ার না বানিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা এখন সময়ের দাবি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বহুদিন ধরেই ছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যও সেই বাস্তবতাকেই নির্দেশ করে।

তিনি বলেন, করোনাকালে যেখানে শহরকেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে মূলত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

কেন শুধু দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে? সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন তোলা হয়। হামের এই অস্বাভাবিক বিস্তার শুধুই স্বাভাবিক সংক্রমণ নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে? পরিকল্পিত ভাইরাস বিস্তার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, কিংবা মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যবস্থায় অদক্ষতা বা অনিচ্ছা, এসব বিষয় নিয়েও নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন, তথ্য আপলোডে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে একাধিকবার টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে হামের টিকাদান কাভারেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকার ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি প্রদর্শিত ‘ক্রুড কাভারেজ’ এবং পরবর্তীতে পরিচালিত কাভারেজ ইভ্যালুয়েশন সার্ভে-এর মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য ছিল। অতীতের অতিরঞ্জিত সরকারি তথ্যের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল বলেও দাবি করা হয়।

হামের হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ। কিন্তু বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে দেশে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা টিকা গ্রহণের উপযুক্ত হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। এর পেছনে মায়েদের পর্যাপ্ত ইমিউনিটি না থাকা, অপুষ্টি এবং সমাজে হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতিকে দায়ী করা হয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ডোজ হামের টিকা মজুত রয়েছে এবং জরুরি ক্যাচ-আপ টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকাদান ক্যাম্পেইনও শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। টিকা ক্রয় বা সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নেই। GAVI, UNICEF, WHO, বিশ্বব্যাংক ও ADB-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেই ইপিআই কর্মসূচির টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। একই সাথে টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি নিরাপত্তা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, হাম প্রতিরোধে সচেতনতা, সময়মতো টিকাদান এবং জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ক শেখ জামাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ ও সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category