শিক্ষাদান, পরীক্ষা গ্রহণ ও ডিগ্রি প্রদান বিষয়ে সংবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে তারা এই কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার তারা কর্মবিরতি পালন করেন।
জানা গেছে, রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পদোন্নতির দাবিতে মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন। প্রায় ২৩ ঘণ্টা অনশনের পর সোমবার বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।
সোমবার সন্ধ্যায় অনশন ভঙ্গের পর ১০২ শিক্ষকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, একজন সহকর্মী অনশনে থাকলে অন্যদের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
শিক্ষকদের বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী চ্যান্সেলরের অনুমোদিত বিধি ছাড়া পদোন্নতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম অবৈধ হতে পারে। এতে ক্লাস, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানসহ পুরো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আইনি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে না ফেলতে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
শিক্ষকদের ভাষ্য, এতদিন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনে ভর্তি, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান ও পদোন্নতির কাজ চলছিল। তবে ইউজিসির সাম্প্রতিক নির্দেশনায় এসব কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউজিসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতিসহ সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সংশোধন করে উপাচার্য ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিতে হবে। এরপর অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করা হবে।
শিক্ষকদের কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, শিক্ষকরা পদোন্নতি চাইছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ওনাদের পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সিলেকশন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পদোন্নতির জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে ও বোর্ড তাদের যাচাই-বাছাই শেষে পদোন্নতি দিতে পারবে। সে অনুযায়ী ইউজিসির সঙ্গে সভা করা হয়েছে। ওই সভার রেজল্যুশন পেলে সমস্যার সমাধান হবে।